অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের আগমন ও যাত্রাপথে লাগেজ বহনের ভোগান্তি কমাতে ১৫০টি নতুন প্যাসেঞ্জার ট্রলি যুক্ত করা হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ট্রলিগুলো বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রবাসীদের বিমানবন্দরকেন্দ্রিক সেবা আরও সহজ ও ত্বরান্বিত করতে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের উদ্যোগে মোট ২০০টি নতুন ট্রলি প্রস্তুত করা হয়েছে। শাহজালাল বিমানবন্দরে হস্তান্তর করা ১৫০টি ট্রলি ছাড়াও বাকি ৫০টি ট্রলি পর্যায়ক্রমে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরবরাহ করা হবে।
হস্তান্তর অনুষ্ঠান শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, "আমাদের অর্থনীতির চালিকাশক্তি প্রবাসীদের সর্বোচ্চ সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বিমানবন্দরে যাতায়াতের সময় ট্রলি সংকটের কারণে যাতে তাঁদের কোনো ধরনের ভোগান্তিতে পড়তে না হয়, সেই লক্ষ্যে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড এই উদ্যোগ নিয়েছে।"
মধ্যপ্রাচ্যের ফ্লাইট জটিলতা ও বিকল্প রুট
মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক পরিস্থিতি এবং বিশেষ করে রিয়াদ বিমানবন্দরকেন্দ্রিক সাম্প্রতিক ফ্লাইট জটিলতা নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, রিয়াদভিত্তিক সমস্যার কারণে প্রবাসীরা যাতে নিরাপদে ও দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন, সে জন্য বিকল্প রুট (যেমন মদিনা হয়ে) কিংবা অন্যান্য আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে তাঁদের পাঠানোর চেষ্টা চলছে। পুরো বিষয়টি মধ্যপ্রাচ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের মিশনগুলো সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করছে।
সৌদি আরবে দণ্ডিত দুই বাংলাদেশির লাশ ফেরত সংক্রান্ত অগ্রগতি
সৌদি আরবের মসজিদে অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত দুই প্রবাসী বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, স্বাভাবিক ফ্লাইট চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় লাশ ফিরিয়ে আনতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে অন্য এয়ারলাইন্সের মাধ্যমে নিহতদের মরদেহ দেশে আনার প্রক্রিয়া সচল রয়েছে। তিনি জানান, নিহত প্রবাসীদের মধ্যে একজনের বাড়ি বগুড়ায় এবং অন্যজনের বাড়ি কুমিল্লায়।
এছাড়া, রিয়াদে সাম্প্রতিক হামলার পর সেখানে আটকে পড়া বাংলাদেশি ওমরাহযাত্রী ও প্রবাসী কর্মীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় মিশন সমন্বিতভাবে কাজ করছে। এ বিষয়ে আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়া যাবে বলেও জানান মন্ত্রী।
সংবাদ সম্মেলনে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন রাগীব সামাদসহ ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড