নিজস্ব প্রতিবেদক:
চাঁদা না দেওয়ায় রাজধানীর ইসিবি চত্বরে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত মধ্যরাতে নিউগ্রিনি প্রপার্টিজে অবস্থিত স্টুডিওটিতে দুর্বৃত্তরা হানা দিয়ে সিসি ক্যামেরাসহ সব ধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি ও আসবাবপত্র তছনছ করে নিয়ে যায়।
এ ঘটনার পর এক ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেন সালমান মুক্তাদির। সেখানে তিনি তোষামোদি বা রাজনৈতিক ব্যাকআপ ছাড়া বাংলাদেশে স্বাধীনভাবে কাজ করার কঠিন বাস্তবতার কথা তুলে ধরেন। তরুণদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “যদি কোনো তোষামোদি না করেন, ব্যাকআপ না থাকে কিংবা রাজনীতি না করেন, তবে বাংলাদেশে এমনটাই ঘটে।” ভেঙে পড়া স্টুডিওর চিত্র দেখিয়ে তিনি আক্ষেপের সঙ্গে যোগ করেন, “তোমরা যদি বাংলাদেশে কোনো স্বপ্ন দেখো, তবে তোমাদের ক্ষেত্রেও এটাই হবে।” ভিডিওতে তিনি ঘটনার জন্য স্থানীয় একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীকে দায়ী করে তাদের এই আচরণকে ধিক্কার জানান এবং নিজের কর্মীদের সান্ত্বনা দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সালমান মুক্তাদিরের এই ভিডিও বার্তা প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে সমর্থন জানিয়েছেন বিশিষ্ট আলোকচিত্রী ও সাংবাদিক শহিদুল আলম। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে শহিদুল আলম লেখেন, “বাংলাদেশে থাকলে আমি সোজা এই স্টুডিওতে চলে যেতাম এবং এই তরুণকে তার সাহস ও সংযমের জন্য জড়িয়ে ধরতাম। শক্ত থাকো ভাই।”
পোস্টে শহিদুল আলম কেবল সাহসের প্রশংসাতেই সীমাবদ্ধ না থেকে চাঁদাবাজির সংস্কৃতির অবসান ও বিচারের দাবি জানান। তিনি বলেন, “আমি বিচার চাই, চাঁদাবাজির সংস্কৃতির অবসান চাই। যারা এর বিরুদ্ধে দাঁড়ান, তাদের সুরক্ষা দিতে হবে এবং যারা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।”
উল্লেখ্য, দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় এ কনটেন্ট ক্রিয়েটরের স্টুডিওতে অতর্কিত এই হামলা ও তছনছের ঘটনায় সর্বস্তরের মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড