নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সাধারণ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের ওপর অত্যাচার, চাঁদাবাজি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে জাহিদ রহমান জন নামের এক প্রভাবশালীর বিরুদ্ধে। বিএনপির রাজনীতি ব্যবহার করে তিনি এলাকায় ভয়ভীতির রাজত্ব কায়েম করেছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ডাব বিক্রেতা, শীতের পিঠা বিক্রেতা ও পুরি-সিঙ্গারা বিক্রেতার মতো স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে প্রতিনিয়ত চাঁদা দাবি করা হচ্ছে। চাঁদা না দিলে দোকানে হামলা, যানবাহন ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। পুরি-সিঙ্গারা বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করা এক ব্যবসায়ী জানান, জাহিদ ও তাঁর ৪-৫ জন সহযোগী দোকানে হামলা চালিয়ে তাঁর ব্যবসার গাড়িটি নিয়ে যান এবং টাকা ছাড়া তা ফেরত দেওয়া হবে না বলে জানান। এমনকি প্রতিবাদ করতে গিয়ে ব্যবসায়ীর স্ত্রীও লাঞ্ছনার শিকার হয়েছেন।
রাজনীতি পরিবর্তনের নামে প্রভাব বিস্তার:
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের আগে জাহিদ সক্রিয়ভাবে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবর্তনের পর তিনি নিজেকে আদাবর থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের আহ্বায়ক পরিচয় দিয়ে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে এলাকায় চাঁদাবাজি শুরু করেছেন।
পারিবারিক বিরোধের সুযোগে অর্থ আদায় ও অনৈতিক চাপ:
এদিকে, ডালিয়া নামের এক ভুক্তভোগী নারী জাহিদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগে জানান, স্বামী বজলুর রহমান বিপুলের সঙ্গে পারিবারিক সমস্যা সমাধানের কথা বলে জাহিদ ও তাঁর সহযোগীরা ভয়ভীতি দেখিয়ে দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। এ ছাড়া মোটরসাইকেল আটক এবং বিবিধ অজুহাতে আরও অর্থ আদায় করেন। পরে অনৈতিক প্রস্তাব মেনে না দেওয়ায় স্বামী-সন্তানসহ তাঁদের এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে বলেও অভিযোগে জানানো হয়।
ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দাবি, দিন এনে দিন খাওয়া এসব মানুষের রুটিরুজির নিরাপত্তার স্বার্থে যেন নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অবিলম্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড