বিশেষ প্রতিনিধি | চট্টগ্রাম/রাঙ্গামাটি
জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত রাঙ্গামাটির কাপ্তাই এবার নবায়নযোগ্য সোলার পাওয়ারের এক নতুন দিশারী হয়ে উঠেছে। কাপ্তাইয়ে দীর্ঘ প্রায় অর্ধশতক ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা পাহাড়ি জমিতে নির্মিত দেশের প্রথম অন-গ্রিড সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এ পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়েছে মোট ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট (কিলোওয়াট ঘণ্টা) সৌর বিদ্যুৎ। বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত এই বিদ্যুতের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা।
পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী উপায়ে তৈরি এই সৌর বিদ্যুৎ দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলার পাশাপাশি আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাচ্ছে।
কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির পরিচালন ব্যয় তুলনামূলকভাবে অত্যন্ত কম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।
"এটি অত্যন্ত লাভজনক একটি উদ্যোগ। এর জন্য অতিরিক্ত কোনো তেল, গ্যাস বা কয়লা ক্রয়ের প্রয়োজন হয় না। নিয়মিত প্যানেলগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ছাড়া এতে বড় ধরনের কোনো রক্ষণাবেক্ষণ খরচ নেই। মেঘলা বা খারাপ আবহাওয়ায় উৎপাদন সামান্য কমলেও তা কখনো পুরোপুরি থমকে যায় না।"
— মো. জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী প্রকৌশলী, কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র
বর্তমান সফলতার ওপর ভিত্তি করে কাপ্তাইয়ে সৌর বিদ্যুতের পরিধি আরও বড় করার কার্যক্রম পুরোদমে এগিয়ে চলেছে।
কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, এই প্রকল্পগুলো সম্পন্ন হলে কাপ্তাই এলাকা থেকে জাতীয় গ্রিডে সৌর বিদ্যুতের সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে।
বিদ্যুৎ খাতের জ্বালানি আমদানির চাপ ও বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় কমাতে সৌর বিদ্যুৎ কার্যকর ভূমিকা রাখছে। জীবাশ্ম জ্বালানি না পোড়ানোর ফলে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাচ্ছে, যা পরিবেশ রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
전문জ্ঞরা মনে করছেন, কাপ্তাইয়ের এই মডেল ব্যবহার করে সারা দেশে সৌর বিদ্যুতের আরও বেশি বিস্তার ঘটানো উচিত: