বিশেষ প্রতিনিধি | প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর
ঘণ্টায় ৩৭০ কিলোমিটারের বেশি গতি, এক সেকেন্ডেরও কম সময়ে শূন্য থেকে ৯৬ কিলোমিটার গতি তোলার ক্ষমতা, আর শূন্যে ভেসে ডিগবাজি দেওয়ার অবিশ্বাস্য প্রযুক্তি—দীর্ঘ নয় বছর পর নতুন রোডস্টার স্পোর্টস কার সামনে এনে বিশ্বকে আবারও চমকে দিলেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ম্যাকগ্রেগরে স্পেসএক্সের পরীক্ষাকেন্দ্রে রোডস্টারের এই বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়।
প্রদর্শনীতে স্পটলাইটের নিচে এবং ঘন ধোঁয়ার মধ্য দিয়ে সাদা রঙের এই বৈদ্যুতিক স্পোর্টস কারটির দ্রুতগতির কসরত তুলে ধরা হয়। একই দিনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) গাড়িটির একটি ভিডিও শেয়ার করেন ইলন মাস্ক। ভিডিওতে গাড়িটিকে মাটি থেকে উঠে শূন্যে ভাসতে, উল্টে যেতে এবং শূন্যেই নানা কৌশলে চলাচল করতে দেখা যায়।
টেসলার ওয়েবসাইটে নতুন এই গাড়িটিকে ‘পদার্থবিজ্ঞানের সীমার বাইরে’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে।
টেসলা জানিয়েছে, স্পেসএক্সের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি বিশেষ থ্রাস্টার এবং ফ্যানভিত্তিক সাকশন প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে রোডস্টারটিকে এই অলৌকিক সক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। গাড়িটিতে ঠান্ডা গ্যাসের থ্রাস্টার ব্যবহার করা হয়েছে, যা এটিকে মাটি থেকে ওপরে তুলতে এবং এর গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। এ ছাড়া বিশেষ ফ্যানভিত্তিক সাকশন ব্যবস্থা সর্বোচ্চ ২ জি (2G) পর্যন্ত আকর্ষণ বল তৈরি করতে সক্ষম।
প্রদর্শনী অনুষ্ঠানে মাস্ক তার বন্ধু পিটার থিয়েলের একটি পুরনো কথা স্মরণ করে কৌতুক করেন। পিটার থিয়েল একসময় আক্ষেপ করে বলেছিলেন, ‘ভবিষ্যতে আমাদের উড়ন্ত গাড়ির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমরা পেয়েছি মাত্র ১৪০ অক্ষর।’ (টুইটারে পোস্টের সাবেক সীমা)। এ প্রসঙ্গে মাস্ক হেসে বলেন, ‘এখন আর তা নয়।’
প্রদর্শনীতে উড়ন্ত কৌশল দেখালেও গাড়িটি মূলত শেষ পর্যন্ত সড়কে চলাচলের উপযোগী যান হিসেবেই বাজারে আনা হবে বলে জানিয়েছেন ইলন মাস্ক।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে দ্বিতীয় প্রজন্মের রোডস্টার প্রথম উন্মোচন করার পর থেকেই এটি অটোমোবাইল বিশ্বে অন্যতম আলোচিত প্রকল্প হিসেবে রূপ নেয়। নতুন এই প্রযুক্তির মডেলটি উন্মোচিত হলেও বাজারে আসার জন্য ভক্তদের ২০২৮ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড