Logo
প্রিন্টের তারিখ: 17 October 2026 | প্রকাশের তারিখ: Oct 18, 2026

সংবাদ শিরোনাম : কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র: জাতীয় গ্রিডে যুক্ত ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট

কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র: জাতীয় গ্রিডে যুক্ত ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট

বিশেষ প্রতিনিধি | চট্টগ্রাম/রাঙ্গামাটি

​জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত রাঙ্গামাটির কাপ্তাই এবার নবায়নযোগ্য সোলার পাওয়ারের এক নতুন দিশারী হয়ে উঠেছে। কাপ্তাইয়ে দীর্ঘ প্রায় অর্ধশতক ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা পাহাড়ি জমিতে নির্মিত দেশের প্রথম অন-গ্রিড সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে এ পর্যন্ত জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়েছে মোট ৬ কোটি ৩৭ লাখ ইউনিট (কিলোওয়াট ঘণ্টা) সৌর বিদ্যুৎ। বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদিত এই বিদ্যুতের আনুমানিক বাজার মূল্য প্রায় ৭৪ কোটি টাকা।

​পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী উপায়ে তৈরি এই সৌর বিদ্যুৎ দেশের সামগ্রিক জ্বালানি নিরাপত্তায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলার পাশাপাশি আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাচ্ছে।

​১. প্রকল্পের পটভূমি ও বর্তমান সক্ষমতা

  • ​অবস্থান ও জমি: ১৯৬২ সালে কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের পর বাঁধের পাশে পরিত্যক্ত থাকা ২২ একর জমির মধ্যে ১৯ একরজুড়ে এই সোলার প্যানেলগুলো স্থাপন করা হয়।
  • ​উৎপাদন ক্ষমতা: ৭.৪ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন এ কেন্দ্রটি প্রায় ১১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়ে ২০১৯ সালে আনুষ্ঠানিক উৎপাদনে যায়।
  • ​কার্যকারিতা: সারি সারি সৌর প্যানেল ব্যবহারের মাধ্যমে সূর্যের আলোকে সরাসরি বিদ্যুতে রূপান্তর করে তা সরাসরি জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে।

​২. অর্থনৈতিক ও পরিচালন সুবিধা

​কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির পরিচালন ব্যয় তুলনামূলকভাবে অত্যন্ত কম বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা।

​"এটি অত্যন্ত লাভজনক একটি উদ্যোগ। এর জন্য অতিরিক্ত কোনো তেল, গ্যাস বা কয়লা ক্রয়ের প্রয়োজন হয় না। নিয়মিত প্যানেলগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা ছাড়া এতে বড় ধরনের কোনো রক্ষণাবেক্ষণ খরচ নেই। মেঘলা বা খারাপ আবহাওয়ায় উৎপাদন সামান্য কমলেও তা কখনো পুরোপুরি থমকে যায় না।"

— মো. জাহাঙ্গীর আলম, সহকারী প্রকৌশলী, কাপ্তাই সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র


​৩. সম্প্রসারণ ও নতুন প্রকল্প

​বর্তমান সফলতার ওপর ভিত্তি করে কাপ্তাইয়ে সৌর বিদ্যুতের পরিধি আরও বড় করার কার্যক্রম পুরোদমে এগিয়ে চলেছে।

  • ​১ মেগাওয়াট সম্প্রসারণ: বিদ্যমান কেন্দ্রের সঙ্গেই আরও ১ মেগাওয়াট সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ চলছে।
  • ​নতুন ৭.৬ মেগাওয়াট প্রকল্প: স্থানীয় প্রাক্তন ব্রিকফিল্ড এলাকায় আরও একটি ৭.৬ মেগাওয়াট সক্ষমতার নতুন পাওয়ার প্লান্টের টেন্ডার ও প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষ করে বাস্তবায়নের কাজ চলমান রয়েছে।

​কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, এই প্রকল্পগুলো সম্পন্ন হলে কাপ্তাই এলাকা থেকে জাতীয় গ্রিডে সৌর বিদ্যুতের সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পাবে।

​৪. পরিবেশগত প্রভাব ও বিশেষজ্ঞ পরামর্শ

​বিদ্যুৎ খাতের জ্বালানি আমদানির চাপ ও বৈদেশিক মুদ্রার ব্যয় কমাতে সৌর বিদ্যুৎ কার্যকর ভূমিকা রাখছে। জীবাশ্ম জ্বালানি না পোড়ানোর ফলে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস পাচ্ছে, যা পরিবেশ রক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

​전문জ্ঞরা মনে করছেন, কাপ্তাইয়ের এই মডেল ব্যবহার করে সারা দেশে সৌর বিদ্যুতের আরও বেশি বিস্তার ঘটানো উচিত:

  • ​পার্বত্য অঞ্চলের সম্ভাবনা: বাংলাদেশের মোট ভূখণ্ডের প্রায় এক-দশমাংশ জুড়ে তিনটি পার্বত্য জেলার অবস্থান। পাহাড়ের বিপুল পরিমাণ অব্যবহৃত জমিতে সৌর পার্ক গড়ে তুললে বিদ্যুৎ খাতের বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।
  • ​সৌর প্রযুক্তির অন্যান্য ক্ষেত্র: ছাদভিত্তিক সৌর বিদ্যুৎ (Rooftop Solar), কৃষিভিত্তিক সোলার এবং বৃহদাকার সোলার পার্ক তৈরিতে পরিকল্পিত সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগের তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
বাস্তব কন্ঠ
Developed by ZapStudio Network
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF