বিশেষ প্রতিবেদক, মোহাম্মদপুর:
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় এক নারীর ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ধারণ করে ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভোলার বোরহানউদ্দিনে এক যুবকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আইনের কাছে আত্মসমর্পণের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন সেলিম নামে এক ব্যক্তি।
সেলিমের দাবি, তার স্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে ভোলার বোরহানউদ্দিন এলাকার এক প্রবাসী যুবকের সঙ্গে পরিচিত হন। পরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ তৈরি হয়। একপর্যায়ে ওই যুবক দেশে ফিরে তার স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন বলেও দাবি করেন সেলিম।
সেলিমের অভিযোগ, ওই সময় তার স্ত্রীর অজ্ঞাতে কিছু ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে সেসব ছবি-ভিডিও প্রকাশের ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি এবং মানসিক চাপ প্রয়োগ করা হতো বলে তিনি দাবি করেন।
সেলিম জানান, প্রথমদিকে তার স্ত্রী বিষয়টি তাকে জানাননি। তবে স্ত্রীর আচরণ ও কান্নাকাটিতে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। পরে তার স্ত্রী কান্নায় ভেঙে পড়ে কথিত ব্ল্যাকমেইলের বিষয়টি জানান বলে দাবি করেন তিনি।
এরপর স্ত্রীর কাছ থেকে ওই যুবকের মোবাইল নম্বর নিয়ে তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন সেলিম। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি বন্ধ করার অনুরোধ করা হলেও পরবর্তীতে আবারও অর্থ দাবি করা হয়। একপর্যায়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
সেলিমের দাবি, এরপরও টাকা চাওয়া অব্যাহত থাকায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ভোলার বোরহানউদ্দিনে ওই যুবকের সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে উত্তেজনার একপর্যায়ে তিনি যুবকটির ওপর হামলা করেন বলে নিজেই স্বীকার করেছেন। হামলায় যুবকের দুই চোখ গুরুতরভাবে আহত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ঘটনাটি নিয়ে আহত যুবকের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। মামলার পর সেলিম আত্মগোপনে না থেকে আত্মসমর্পণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।
মোবাইল ফোনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সেলিম বলেন, তার স্ত্রীকে ঘিরে কথিত ব্ল্যাকমেইলের ঘটনায় তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন। সেই পরিস্থিতিতে নিজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে হামলা করেন বলে স্বীকার করেন তিনি।
সেলিম বলেন, নিজের হাতে আইন তুলে নেওয়া তার ভুল হয়েছে এবং তিনি এর জন্য আইনের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে হামলার পেছনের কথিত ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করার দাবি জানান তিনি।
সেলিম আরও দাবি করেন, ওই যুবকের ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন তার কাছে রয়েছে। সেখানে আরও কয়েকজন নারীর সঙ্গে একই ধরনের যোগাযোগের তথ্য রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে এই দাবির স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সেলিমের দাবি, হামলার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা যেমন তদন্ত করা হবে, তেমনি তার স্ত্রীর ব্যক্তিগত ছবি-ভিডিও ধারণ ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগেরও তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত যুবকের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে। অভিযোগের সত্যতা আদালত বা তদন্তে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড