বিশেষ প্রতিনিধি | ঢাকা
নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো কার্যকর করা হলেও সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আপাতত আগের হারেই তাঁদের বিভিন্ন ভাতা পাবেন। অর্থাৎ চলতি বছরের ৩০ জুন যে হারে তাঁরা ভাতা পাচ্ছিলেন, সরকারের পরবর্তী নির্দেশনা বা আদেশ জারি না হওয়া পর্যন্ত সেই হারেই ভাতা বহাল থাকবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ আজ সোমবার এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
অর্থ বিভাগের জারি করা এই প্রজ্ঞাপনটি সরকারের সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, দপ্তর, সংস্থা এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য হবে।
প্রকাশিত প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবীদের ২০২৬ সালের ‘বেতন ও ভাতাদি আদেশ’-এ নির্ধারিত মূল বেতন চূড়ান্তভাবে কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত প্রচলিত মূল বেতনের শতকরা হারেই ভাতা দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর বেতন ও ভাতাদি আদেশের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। অবশ্য নতুন কাঠামো অনুযায়ী ভাতার টাকা পরবর্তীতে ধাপে ধাপে দেওয়া হবে বলে আগেই সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছিল।
ভাতা আপাতত স্থগিত থাকলেও চলতি অক্টোবর মাস থেকেই বাড়তি বেতন পেতে শুরু করবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের বেতন থেকেই কর্মচারীদের অ্যাকাউন্টে বর্ধিত বেতন জমা হবে এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দ ইতিমধ্যে রাখা হয়েছে।
বর্তমানে নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো অনুযায়ী অনলাইনে বেতন নির্ধারণের (পে-ফিক্সেশন) কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। আগামী কাল মঙ্গলবারের মধ্যে এই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। এ লক্ষ্যে গত ৫ অক্টোবর থেকে সরকারি কর্মচারীরা অর্থ বিভাগের ‘আইবাস প্লাস প্লাস’ (iBAS++) সফটওয়্যারের পে-ফিক্সেশন অপশনে গিয়ে নিজ নিজ প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করছেন।
ঘোষিত নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী সর্বনিম্ন মূল বেতন ধরা হয়েছে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ নির্ধারিত মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা। ১ জুলাই থেকে এই বেতনকাঠামো কার্যকর হলেও অর্থনীতির সার্বিক দিক বিবেচনায় পুরো প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বাস্তবায়ন সূচি: