আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রে পৃথক দুটি বন্দুক হামলার ঘটনায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে জর্জিয়া ও পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যে এ রক্তক্ষয়ী হামলার ঘটনা ঘটে। স্থানীয় পুলিশ ও সংবাদমাধ্যম সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের ডগলাস শহরের একটি আবাসিক ভবনে। শুক্রবার সন্ধ্যায় গুলির খবর পেয়ে ডগলাস পুলিশ বিভাগের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। সেখানে পাঁচজনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃত ঘোষণা করা হয়।
অন্যদিকে, একই সন্ধ্যায় পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের এরি (Erie) শহরে ঘটে আরেকটি ভয়াবহ বন্দুক হামলার ঘটনা। সেখানে এক হামলাকারীসহ মোট নয়জনের মৃত্যু হয়। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে একটি ‘মর্মান্তিক গণগুলি’ (Mass Shooting) হিসেবে উল্লেখ করেছে। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু এবং একজন অন্তঃসত্ত্বা নারী রয়েছেন বলে জানা গেছে।
এরি শহর কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, স্বয়ংক্রিয় শব্দ শনাক্তকরণ ব্যবস্থা ‘শটস্পটার’ (ShotSpotter)-এর মাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) ও বিভিন্ন পয়েন্টে থাকা মাইক্রোফোনের সহায়তায় গুলির শব্দ শনাক্ত করে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর আগেই হামলাকারীসহ নয়জনের মৃত্যু ঘটে।
ঘটনার পর পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো এরি শহরের মেয়র দারিয়া ডেভলিনের সঙ্গে কথা বলেন এবং রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
এরি শহরের পুলিশপ্রধান রিক লোরাহ ঘটনাস্থলের ভয়াবহতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, "পুলিশ বাহিনীতে আমার ২৮ বছরেরও বেশি সময়ের কর্মজীবনে এমন মর্মান্তিক দৃশ্য ও ধ্বংসযজ্ঞ আমি আর কখনো দেখিনি।"
হামলার প্রকৃত কারণ বা পেছনের উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার বিস্তারিত তদন্তের জন্য স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।