নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা | ১৬ অক্টোবর
ক্ষুধা ও অপুষ্টি দূরীকরণ, সবার জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে আজ (শুক্রবার) সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে বিশ্ব খাদ্য দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘আজকের উদ্ভাবন আগামী সমৃদ্ধি’।
দিবসটি উপলক্ষে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বার্ক) মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকরা টেকসই খাদ্য উৎপাদনব্যবস্থা, কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন, খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।
বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন, ভূরাজনৈতিক সংঘাত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্যনিরাপত্তা সংকট জটিল আকার ধারণ করেছে। খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহের সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য পুষ্টিকর খাবার জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বৈশ্বিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ২৬ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
আন্তর্জাতিক সংস্থা এফএও-এর তথ্যমতে, বিশ্বজুড়ে এখনও প্রায় ৬৪ কোটি ৫০ লাখ (৬৪৫ মিলিয়ন) মানুষ ক্ষুধার সঙ্গে যুদ্ধ করছেন। এছাড়া প্রায় ২৬৯ কোটি (২.৬৯ বিলিয়ন) মানুষ স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার কিনে খাওয়ার সামর্থ্য রাখেন না।
বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাটে ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন এবং মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে নিরাপদ খাবার পানির সংকট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় দরিদ্র পরিবার ও শিশুরা চরম অপুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছে।
১৯৪৫ সালের ১৬ অক্টোবর জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯৭৯ সালে হাঙ্গেরির তৎকালীন কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রী পল রোমানি সংস্থাটির সম্মেলনে ১৬ অক্টোবরকে 'বিশ্ব খাদ্য দিবস' হিসেবে পালনের প্রস্তাব দেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৮১ সাল থেকে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, খাদ্য কেবল কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এটি মানুষের মৌলিক মানবাধিকার ও বৈশ্বিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি। খাদ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা, কৃষি উৎপাদনকে টেকসই করা এবং প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করার আহ্বান জানিয়েই প্রতিবছর বিশ্ব খাদ্য দিবস আমাদের পুনর্বার সজাগ করে তোলে।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড