Logo
প্রিন্টের তারিখ: 17 October 2026 | প্রকাশের তারিখ: Oct 18, 2026

সংবাদ শিরোনাম : আজ বিশ্ব খাদ্য দিবস

আজ বিশ্ব খাদ্য দিবস

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা | ১৬ অক্টোবর

​ক্ষুধা ও অপুষ্টি দূরীকরণ, সবার জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিতকরণ এবং বৈশ্বিক খাদ্যনিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে আজ (শুক্রবার) সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে বিশ্ব খাদ্য দিবস। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘আজকের উদ্ভাবন আগামী সমৃদ্ধি’।

​দিবসটি উপলক্ষে কৃষি মন্ত্রণালয় এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) যৌথ উদ্যোগে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বার্ক) মিলনায়তনে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ ও নীতিনির্ধারকরা টেকসই খাদ্য উৎপাদনব্যবস্থা, কৃষি প্রযুক্তি উদ্ভাবন, খাদ্য নিরাপত্তা ও পুষ্টি পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করবেন।

​জলবায়ু সংকট ও বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট

​বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তন, ভূরাজনৈতিক সংঘাত, প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে বিশ্বজুড়ে খাদ্যনিরাপত্তা সংকট জটিল আকার ধারণ করেছে। খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহের সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য পুষ্টিকর খাবার জোগাড় করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বৈশ্বিক মূল্যায়ন অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ২৬ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।

​আন্তর্জাতিক সংস্থা এফএও-এর তথ্যমতে, বিশ্বজুড়ে এখনও প্রায় ৬৪ কোটি ৫০ লাখ (৬৪৫ মিলিয়ন) মানুষ ক্ষুধার সঙ্গে যুদ্ধ করছেন। এছাড়া প্রায় ২৬৯ কোটি (২.৬৯ বিলিয়ন) মানুষ স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার কিনে খাওয়ার সামর্থ্য রাখেন না।

​বাংলাদেশে উপকূলীয় চ্যালেঞ্জ

​বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা ও বাগেরহাটে ঘন ঘন ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন এবং মাটির লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে কৃষি উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে নিরাপদ খাবার পানির সংকট তৈরি হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় দরিদ্র পরিবার ও শিশুরা চরম অপুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছে।

দিবসটির পটভূমি ও গুরুত্ব

​১৯৪৫ সালের ১৬ অক্টোবর জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ১৯৭৯ সালে হাঙ্গেরির তৎকালীন কৃষি ও খাদ্যমন্ত্রী পল রোমানি সংস্থাটির সম্মেলনে ১৬ অক্টোবরকে 'বিশ্ব খাদ্য দিবস' হিসেবে পালনের প্রস্তাব দেন। এর ধারাবাহিকতায় ১৯৮১ সাল থেকে প্রতিবছর বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

​বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, খাদ্য কেবল কোনো ব্যক্তিগত বিষয় নয়, এটি মানুষের মৌলিক মানবাধিকার ও বৈশ্বিক উন্নয়নের মূল ভিত্তি। খাদ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা, কৃষি উৎপাদনকে টেকসই করা এবং প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে সরবরাহব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করার আহ্বান জানিয়েই প্রতিবছর বিশ্ব খাদ্য দিবস আমাদের পুনর্বার সজাগ করে তোলে।

বাস্তব কন্ঠ
Developed by ZapStudio Network
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF