নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ৩ অক্টোবর ২০২৬
আমদানিনির্ভর ফলের বাজার স্থিতিশীল রাখতে ও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করতে আমদানিকারকদের দ্রুত ঋণপত্র (এলসি) খুলে আমদানি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। একই সঙ্গে খুচরা বাজারে প্রতি কেজি মাল্টার দাম অস্বাভাবিকভাবে ৫২০ টাকায় পৌঁছানোর পেছনে কারণ জানতে চেয়েছেন তিনি। অন্যায্য ও অযৌক্তিক মূল্যে ফল বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রী।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ফলের বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে ফল ব্যবসায়ী এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, "আমদানি মূল্য, শুল্ক-কর ও পরিবহন ব্যয় বিবেচনা করার পরও বাজারে মাল্টার এত বেশি দাম হওয়া অযৌক্তিক। কোনো অবস্থাতেই বাজারে অহেতুক মূল্যবৃদ্ধির সুযোগ দেওয়া হবে না।" বিকল্প উৎস থেকে ফল আমদানি বাড়িয়ে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ওপর জোর দেন তিনি।
সভায় আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা জানান, দেশে স্বাভাবিক চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন প্রায় ১৫ কনটেইনার মাল্টার প্রয়োজন হলেও সম্প্রতি কোনো কোনো সপ্তাহে তা নেমে এসেছে মাত্র ১২ থেকে ২৯ কনটেইনারে। সরবরাহ ঘাটতিই বর্তমান মূল বৃদ্ধির প্রধান কারণ। এছাড়া উচ্চশুল্ক, আন্তর্জাতিক পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, বন্দর জটিলতা এবং আগের চালানে আর্থিক লোকসানের কারণে অনেক ব্যবসায়ী আমদানি কমিয়ে দিয়েছেন। পচনশীল পণ্য হওয়ায় পরিবহন ও সংরক্ষণে বড় ধরনের ঝুঁকির কথাও তুলে ধরেন ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের বক্তব্য শুনে বাণিজ্যমন্ত্রী মাল্টার বিদ্যমান শুল্ক কাঠামো পর্যালোচনা করার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি সামনে আসন্ন চাহিদা বিবেচনায় এখন থেকেই খেজুর আমদানির প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য ব্যবসায়ীদের তাগিদ দেন তিনি। খেজুর আমদানির শুল্ক-কর ছাড়ের বিষয়ে চলতি সপ্তাহের মধ্যেই সরকারের সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলেও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
সভায় ব্যবসায়ীরা বিকল্প দেশ থেকে ফল আমদানি বাড়িয়ে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সরবরাহ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে শুল্কায়ন ও এলসি খোলার জটিলতা নিরসনে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়।
বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খানের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যান নাসির উদ দৌলা, জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. জহিরুল ইসলাম, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড