নিজস্ব প্রতিবেদক | বাস্তব কণ্ঠ
দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ক্রমেই উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় মশাবাহিত এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ৫৯৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত নিয়মিত ডেঙ্গু পরিস্থিতির বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। বুলেটিন অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন রোগীরা ভর্তি হন।
নতুন ভর্তি রোগীদের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ১৭১ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৩২ জন চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছেন। ঢাকার দুই সিটির বাইরে ঢাকা বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৩৮৩ জন।
ঢাকা বিভাগের পর সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন খুলনা বিভাগে—২৯০ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ১৬৫, বরিশালে ১৫৯, রাজশাহীতে ১৩৭, ময়মনসিংহে ৮২, রংপুরে ৬৫ এবং সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, একই সময়ে চিকিৎসা শেষে ১ হাজার ৫৬৬ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশে ৫৫ হাজার ১৬৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫০ হাজার ৯৪১ জন। এ নিয়ে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬৪ জনে।
এর মধ্যে সেপ্টেম্বর মাসেই মারা গেছেন ৬৭ জন। মাসভিত্তিক হিসাবে এটি চলতি বছরের সর্বোচ্চ মৃত্যু। ফলে সেপ্টেম্বরকে ঘিরে ডেঙ্গুর প্রকোপ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ২০০০ সাল থেকে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি ও মৃত্যুর হিসাব সংরক্ষণ করে আসছে। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা সবচেয়ে বেশি ছিল। ওই বছর ৩ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হন এবং মারা যান ১ হাজার ৭০৫ জন।
এদিকে গত বছরও ডেঙ্গুতে চার শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সে বছর আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ২ হাজার।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বর্ষা ও বর্ষা-পরবর্তী সময়ে এডিস মশার বিস্তার নিয়ন্ত্রণে বাড়ি, কর্মস্থল ও আশপাশের জমে থাকা পানি অপসারণ এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছেন।
সূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু পরিস্থিতি বিষয়ক বুলেটিন
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড