বিশেষ প্রতিনিধি:
দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ, অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ড এবং নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), সাংবাদিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের হুমকির অভিযোগে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মতিউর রহমান সাগরকে দল থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) শরীয়তপুর জেলা বিএনপির সভাপতি সফিকুর রহমান কিরণ ও সাধারণ সম্পাদক সরদার এ কে এম নাসির উদ্দিন কালুর নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ কামরুল হাসান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
ঘটনার বিবরণ ও ধারাবাহিকতা:
দলীয় সূত্র জানায়, মতিউর রহমান সাগরের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকার অভিযোগ ছিল। ধারাবাহিক অভিযোগের মুখে গত ২৮ জুলাই তাকে কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশও প্রদান করে দল। তবে পরবর্তীতে তার আচরণে পরিবর্তন না আসায় এবং নতুন করে একাধিক গুরুতর অভিযোগ ওঠায় তাকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় জেলা বিএনপি।
তার বিরুদ্ধে সর্বশেষ অভিযোগ ওঠে গত সোমবার (৫ অক্টোবর)। ওইদিন নড়িয়া উপজেলার নোয়াদ্দা বাংলাবাজার এলাকায় নির্বাচনী বিলবোর্ড স্থাপনকে কেন্দ্র করে জুলাই শহীদ মিরাজুল ইসলাম অর্ণবের বাবা আবু তালেবের সঙ্গে সাগরের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে অর্ণবের চাচা আব্দুস সালামকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে থানায় তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে সাগরের বিরুদ্ধে। তবে পুলিশ বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে সত্যতা না পাওয়ায় আব্দুস সালামকে ছেড়ে দেয়।
এই ঘটনার জের ধরে সাগর নড়িয়া থানার ওসি আনোয়ার হোসেনকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ ওঠে, যা পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসে। এছাড়া বিভিন্ন সময় সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী ও সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগে সাগরের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর খাতায় অন্তত ছয়টি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) রয়েছে বলে জানা গেছে।
দলের বক্তব্য ও অনুলিপি প্রেরণ:
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মতিউর রহমান সাগরের এসব অপকর্মের কারণে দলের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে। তাই দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাকে নড়িয়া উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পদসহ দলীয় সকল পদ ও দায়িত্ব থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হলো।
বহিষ্কারাদেশের অনুলিপি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী এবং ফরিদপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্তের প্রতিক্রিয়া:
এদিকে সাময়িক বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মতিউর রহমান সাগর। এক স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সঠিকভাবে জেলা বিএনপির হাইকমান্ডের কাছে উপস্থাপন করা হয়নি। মূল ঘটনা সঠিকভাবে খতিয়ে দেখলে শিগগিরই তার এই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড