স্টাফ রিপোর্টার, ময়মনসিংহ:
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা থানা ভবন এবং সংলগ্ন ট্রাফিক পুলিশ বক্সে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে মুক্তাগাছা পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ রব্বানী টুটুলসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাতে মুক্তাগাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ মিঠু মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টা ২০ মিনিটে আরিফ রব্বানী টুটুলের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোঁটা, রড ও ইটপাটকেল নিয়ে মুক্তাগাছা থানার প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হন। জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর উদ্দেশ্যে তারা থানা ভবন এবং পাশের ট্রাফিক পুলিশ বক্সে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে ভাঙচুর চালায়। এতে থানার জানালার গ্লাস, আসবাবপত্র এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণের বিভিন্ন সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে প্রাথমিক প্রাক্কলন অনুযায়ী প্রায় ৫০ হাজার টাকার সরকারি সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, তাণ্ডব চলাকালে কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে হামলাকারীরা তাদের লক্ষ্য করেও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ সদস্যরা আহত হওয়ার উপক্রম হন এবং থানার সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বিঘ্নিত হয়।
মামলায় এজাহারনামীয় ১১ জন আসামি হলেন— পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফ রব্বানী টুটুল (৫০), উপেল (২৪), সোহেল ডিএস সোহেল (৩৬), রুবেল (২৮), ফরিদ (২৭), কামরুল (৪৮), মিলন (৩৩), রনি (৩৫), রাকিব (২৫), নিরব (২২) ও নাহিদ (২৫)। আসামিরা সবাই মুক্তাগাছা পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ঈশ্বরগ্রাম এলাকার বাসিন্দা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে জোরদার পুলিশি অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড