জেলা প্রতিনিধি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:
সৌদি আরব থেকে ডাকযোগে আসা ২৯.৯০ কেজি ওজনের একটি পার্সেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রধান ডাকঘরে পৌঁছে পাওয়া গেল ১৯.৭০ কেজি। অর্থাৎ মাঝপথেই উধাও হয়ে গেছে ১০.২০ কেজি মালামাল। ওজনে ঘাটতি দেখে পার্সেল গ্রহণে আপত্তি জানালে ভুক্তভোগী গ্রাহকের সঙ্গে চরম দুর্ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে জেলা প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টারের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের পশ্চিম পাইকপাড়ার বাসিন্দা মো. আতিকুর রহমানের সঙ্গে। এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণ দাবি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সৌদি আরব থেকে আতিকুর রহমানের নামে খেজুর, লোশন, ক্রিম, সাবান, চকলেট ও জুতো ভর্তি একটি কার্টুন পার্সেল পাঠানো হয়। গত ৪ অক্টোবর ডাকঘর থেকে পার্সেলটি গ্রহণের জন্য তাকে ফোন দেওয়া হয়। পরদিন ৫ অক্টোবর তিনি পার্সেলটি তুলতে ডাকঘরে গেলে সেটি দু'পাশে ছেঁড়া অবস্থায় দেখতে পান। বক্সের গ গায়ে প্রেরিত ওজন ২৯.৯০ কেজি লেখা থাকলেও ডাকঘরের স্কেলে মেপে পাওয়া যায় মাত্র ১৯.৭০ কেজি।
পার্সেলের ১০.২০ কেজি মালামাল কম হওয়ার কারণ জানতে চাইলে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার তাকে জানান, তারা পার্সেলটি ছেঁড়া অবস্থাতেই গ্রহণ করেছেন এবং এতে তাদের কিছু করার নেই। ছেঁড়া পার্সেল পেয়েও কেন অফিসিয়ালি বিষয়টি নোট করা হয়নি কিংবা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে পোস্টমাস্টার জানান যে তারা অফিসিয়াল নোট নিয়েছেন। ভুক্তভোগী আতিকুর রহমান সেই নোটের কপি চাইলে তাকে ২ ঘণ্টা পর আসতে বলা হয় এবং পার্সেলটি ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য ৭,৯৮৮ টাকা পরিশোধ করতে বলা হয়।
পরবর্তীতে ডাক কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারিত মালামাল খোলার পর ভেতরের সব প্যাকেট ছেঁড়া ও খোলা অবস্থায় পাওয়া যায়। প্যাকেটের ভেতর থেকে খেজুর, লোশন, ক্রিম, সাবান ও চকলেটের একটি বড় অংশ গায়েব পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ করেন প্রাপক।
ভুক্তভোগী মো. আতিকুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "মালামাল কম থাকার বিষয়ে কথা বলতে গেলে পোস্টমাস্টার আমার সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং বলেন 'পার্সেল এভাবেই আসে'। লিখিত অভিযোগ দিতে গেলেও তিনি তা গ্রহণে গড়িমসি করেন এবং রিসিভ কপিতে সিল দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে বাড়িতে আসার পর ডাকঘর থেকে ফোন করে বিষয়টি নিয়ে আর বাড়াবাড়ি না করার জন্য আমাকে চাপ দেওয়া হয়।"
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রধান ডাকঘরের পোস্টমাস্টার জিনাত রেহেনা জানান, তাদের অফিসের কেউ প্যাকেট খোলেনি। মালামাল চট্টগ্রাম থেকে তাদের কার্যালয়ে পৌঁছায়। ওজনে ঘাটতির বিষয়টি চিঠির মাধ্যমে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থায় এমন অনিয়ম ও মালামাল চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা এবং এর দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড