বিশেষ প্রতিনিধি: পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পরিচয় দিয়ে একাধিকবার বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রাজশাহী রেঞ্জ কার্যালয়ে সংযুক্ত সাময়িক বরখাস্ত পুলিশ কর্মকর্তা টুটুল চক্রবর্তীকে চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত করেছে সরকার।
রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় গত বুধবার (৮ অক্টোবর) এ সংক্রান্ত এক প্রজ্ঞাপন জারি করে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, সরকারি দায়িত্বে অবহেলা, আদেশ অমান্য এবং বিভাগীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ‘সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী তাকে এ প্রশাসনিক শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।
ঘটনার পটভূমি ও অভিযোগ:
প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১৩ নভেম্বর অনুমোদিত ছুটি শুরু হওয়ার একদিন আগেই নির্ধারিত প্রতিবেদন জমা না দিয়ে কর্মস্থল ত্যাগ করেন টুটুল চক্রবর্তী। ঐ দিনই তিনি নিজেকে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি পরিচয় দিয়ে শাহ মখদুম বিমানবন্দরের ভিআইপি (ডিআইজি) লাউঞ্জ ব্যবহার করেন এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় আসেন। অথচ তাকে ১৪ ও ১৫ নভেম্বরের জন্য কর্মস্থল ত্যাগের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল এবং ১৬ থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত তার নৈমিত্তিক ছুটি অনুমোদিত ছিল।
তদন্তে উঠে আসে, টুটুল চক্রবর্তী এর আগেও একাধিকবার ভুয়া পরিচয় দিয়ে রাজশাহী বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জ সুবিধা ভোগ করেছেন। বিষয়টি গোয়েন্দা সংস্থার নজরে আসলে বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়।
তদন্ত ও শাস্তিমূলক প্রক্রিয়া:
অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করে এবং চলতি বছরের ৫ ফেব্রুয়ারি তাকে প্রথম কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। তবে তিনি নির্ধারিত সময়ে জবাব দেননি বা সময় বাড়ানোর আবেদনও করেননি। পরবর্তীতে ২ এপ্রিল তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয় এবং ৭ মে জমা দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়।
এর ভিত্তিতে গত ১৬ জুন তাকে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে কেন চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়। এ নোটিশের কোনো জবাব দেননি তিনি। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, টুটুল চক্রবর্তী গত ২৩ জানুয়ারি থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত ও পলাতক রয়েছেন।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত:
তদন্ত প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনার পর সরকার তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয় এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (বিপিএসসি) পরামর্শ চায়। গত ১৪ সেপ্টেম্বর বিপিএসসি বরখাস্তের সুপারিশ অনুমোদন করলে তা মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়। গত ৫ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড