রাজশাহী প্রতিনিধি:
নাটোর রেলওয়ে স্টেশন থেকে জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডারের চুরি যাওয়া ম্যাকবুক ল্যাপটপ ও ডিএসএলআর ক্যামেরা উদ্ধারে রাজশাহীতে অভিযান ও তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত ল্যাপটপটির অবস্থান কয়েক দফা শনাক্ত করা গেলেও সেটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
পুলিশ জানায়, সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সকালে ল্যাপটপটির অবস্থান নাটোরের আব্দুলপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাছে শনাক্ত হয়। ওই সময় স্টেশনে থাকা ট্রেনগুলোতেও তল্লাশি চালানো হয়। তবে ল্যাপটপ বা ক্যামেরার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
চুরি যাওয়া মালামালের সন্ধানে বৃহস্পতিবার রাজশাহীতে অবস্থান করছিলেন জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “কাজটি কঠিন, তবে আমার মনে হচ্ছে আমরা ধীরে ধীরে সঠিক অবস্থানের কাছাকাছি পৌঁছাচ্ছি।”
সর্বশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, গত কয়েক ঘণ্টায় নিশ্চিত কোনো অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে তার জিনিসপত্রের অবস্থান খুঁজে পাওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদী।
পুলিশের তৎপরতায় সন্তোষ প্রকাশ করে ক্রিল ল্যান্ডার বলেন, তার মালামাল উদ্ধারে পুলিশ কর্মকর্তারা আন্তরিকভাবে কাজ করছেন। বাংলাদেশে এটিই তার প্রথম সফর বলেও জানান তিনি।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনের টিকিট কেনার জন্য একটি এটিএম বুথে টাকা তুলতে যান ক্রিল ল্যান্ডার। এ সময় তিনি নিজের ব্যাগ ও অন্যান্য জিনিসপত্র এক ব্যক্তির কাছে রেখে যান। ওই ব্যক্তি নিজেকে রেলওয়ের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন বলে জানান পর্যটক।
টাকা তুলে ফিরে এসে তিনি ওই ব্যক্তি ও তার ব্যাগ—কোনোটিই দেখতে পাননি। ব্যাগে একটি ম্যাকবুক ল্যাপটপ, ডিএসএলআর ক্যামেরাসহ গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র ছিল।
ঘটনার পর নাটোর সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন ক্রিল ল্যান্ডার। এরপর তার ল্যাপটপের অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা শুরু করে পুলিশ।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, একপর্যায়ে ল্যাপটপটির অবস্থান রাজশাহীর রেলগেট এলাকায় শনাক্ত হয়। পরে বুধবার রাত ১১টার দিকে ক্রিল ল্যান্ডার রাজশাহীতে পৌঁছালে ল্যাপটপটির অবস্থান মহিলা কলেজের আশপাশে দেখায়।
রাজশাহী রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ল্যাপটপটির অবস্থান শনাক্ত হওয়ার পর রেলওয়ে পুলিশ, রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) বোয়ালিয়া থানা, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও র্যাবের সদস্যরা ওই এলাকায় অভিযান চালান।
এ ছাড়া স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, মেস মালিক ও কেয়ারটেকারদেরও বিষয়টি জানানো হয়।
ওসি বলেন, ল্যাপটপটিতে কোনো সিম না থাকায় সুনির্দিষ্ট অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। রাতে ল্যাপটপটির অবস্থানেরও কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি। পরে সেটি বিক্রি করে দেওয়ার আশঙ্কায় সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদেরও সতর্ক করা হয়।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে ল্যাপটপটির অবস্থান নাটোরের আব্দুলপুর রেলওয়ে স্টেশনের কাছে শনাক্ত হয়। ওই সময় স্টেশনে তিতুমীর ও বনলতা এক্সপ্রেস ট্রেন থাকার কথা ছিল।
খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ ট্রেন দুটিতে তল্লাশি চালায়। তবে সেখানে ল্যাপটপ বা ডিএসএলআর ক্যামেরার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
রাজশাহী রেলওয়ে থানার ওসি মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “আমাদের চেষ্টা অব্যাহত আছে। সঠিক লোকেশন পাওয়া গেলে ল্যাপটপটি উদ্ধার করা সম্ভব হবে। বিদেশি পর্যটক আমাদের মেহমান। তার জিনিসপত্র যাতে দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া যায়, সে জন্য বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।”
পুলিশ জানিয়েছে, জার্মান পর্যটকের চুরি যাওয়া ল্যাপটপ ও ক্যামেরা উদ্ধারে রাজশাহী মহানগর পুলিশ (আরএমপি), ডিবি, র্যাব, টুরিস্ট পুলিশ ও রেলওয়ে পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে সন্দেহভাজন এক ব্যক্তির ছবি পাওয়া গেছে। তার ছবি বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে এবং তাকে শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এদিকে বুধবার রাতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের একটি হোটেলে ক্রিল ল্যান্ডারের থাকার ব্যবস্থা করে পুলিশ। তাকে খাবারও সরবরাহ করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী রেলওয়ে থানায় অবস্থান করছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ল্যাপটপ ও ক্যামেরা উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে অভিযান ও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড