সাভার প্রতিনিধি:
সাভারে পুলিশ সদস্য মো. আলতাব হোসেন হত্যা মামলায় জহুরুল ইসলাম নামে এক আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা সিদ্দিকার আদালত এ আদেশ দেন।
ঢাকা জেলা পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও আমিনবাজার পুলিশ ক্যাম্পের এসআই মো. জাকির আল আহসান জহুরুল ইসলামকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেন, অজ্ঞাতনামা কয়েকজন ব্যক্তি পরস্পরের যোগসাজশে পুলিশ সদস্য আলতাব হোসেনকে হামলা চালিয়ে হত্যা করে মরদেহ ফেলে রেখে যায়। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন, ঘটনায় ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং সংশ্লিষ্ট অন্যদের শনাক্ত করতে আসামিকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাভারের বরদেবী পশ্চিমপাড়ায় আবুল কালাম আজাদের অটো গ্যারেজের সামনে অটো রাখা নিয়ে কয়েকজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে গেলে পুলিশ সদস্য আলতাব হোসেন হামলাকারীদের রোষানলে পড়েন।
পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে তিনি তার ছেলে আরিফুল ইসলামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘গ্র্যান্ড ফ্যাশন’-এ আশ্রয় নেন। তবে রাত আনুমানিক ৮টা ১০ মিনিটের দিকে হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে গিয়ে হামলা চালায়।
অভিযোগে বলা হয়, হামলাকারীরা রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে আলতাব হোসেনকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করে। বাবাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে তার ছেলে আরিফুল ইসলামও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত হন।
হামলার সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। এতে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে। একই সময়ে ক্যাশ বাক্স থেকে দুই লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
পরে স্থানীয়রা আহত আলতাব হোসেন ও তার ছেলে আরিফুল ইসলামকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আলতাব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত আরিফুল ইসলামকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এ ঘটনায় নিহত পুলিশ সদস্যের স্ত্রী মোছা. শিউলী পারভীন বাদী হয়ে সাভার থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৫ জনকে এজাহারভুক্ত আসামি করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড