নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬: ব্যারিস্টার জাইমা রহমান বাংলাদেশ সরকারের কোনো সুপারিশ বা প্রভাবে নয়, বরং সম্পূর্ণ নিজস্ব মেধা ও যোগ্যতার জোরে জাতিসংঘে চাকরি পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। তিনি স্পষ্ট করেন, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের দূরতম কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক নিউইয়র্ক সফর নিয়ে বিস্তারিত তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন জানান, জাতিসংঘের নিজস্ব সুনির্দিষ্ট নিয়মকানুন এবং নির্বাহী কার্যালয়ের হিউম্যান রিসোর্সেস টিমের মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে এই আন্তর্জাতিক নিয়োগটি সম্পন্ন হয়েছে। জাইমা রহমানের নিয়োগের প্রক্রিয়া ও যাবতীয় আর্থিক সুবিধাদি জাতিসংঘ সরাসরি বহন করে। যে কেউ চাইলে জাতিসংঘের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে এই পদের যাবতীয় তথ্য ও নিয়োগের স্বচ্ছতা যাচাই করতে পারবেন।
জাতিসংঘের পেশাগত কাঠামোর বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, “জাতিসংঘের প্রফেশনাল কাঠামোতে ‘পি-১’ হলো নতুন স্নাতকদের জন্য, ‘পি-২’-এর জন্য ন্যূনতম দুই বছরের অভিজ্ঞতা এবং ‘পি-৩’ পদের জন্য অন্তত পাঁচ বছরের মধ্যবর্তী পেশাগত অভিজ্ঞতা প্রয়োজন হয়। ব্যারিস্টার জাইমা রহমান তার মেধা, শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে নিরপেক্ষ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ‘পি-৩’ পদে নিযুক্ত হয়েছেন। তার পেশাগত প্রোফাইলের সাথে পদটি পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।”
অতীতে রাজনৈতিক বা পারিবারিক প্রভাব খাটিয়ে আন্তর্জাতিক মিশনে পদায়নের সংস্কৃতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, জাইমা রহমান সরকারি কোনো প্রতিনিধিদলেও অন্তর্ভুক্ত ছিলেন না। সম্পূর্ণ নিজস্ব পেশাগত সক্ষমতায় তিনি জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থায় নিজের জায়গা করে নিয়েছেন।
নিয়োগ নিয়ে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক অপপ্রচার এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মুখপাত্র বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একজন বাংলাদেশির নিজস্ব মেধার জোরে এমন অবস্থানে পৌঁছানোকে রাজনীতিতে না জড়িয়ে বরং সাধুবাদ জানানো উচিত।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড