বিশেষ প্রতিনিধি, সাঁথিয়া (পাবনা):
‘আমি তোর সাথে যাবোরে, ও সোনার বাজানরে। আমি আর কিছু চাই না’— উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে শুনানির সময় অসুস্থ মা মুন্নি খাতুনের (৫৫) এমন করুণ আকুতিও গলাতে পারেনি ছেলে সাগর হোসেনের মন। মায়ের ভরণপোষণের খরচ দিতে রাজি হলেও তাঁকে নিজের সাথে রাখতে সাফ মানা করে দিয়েছেন গ্রাম পুলিশে কর্মরত এই ছেলে।
গত বৃহস্পতিবার পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে মা-ছেলের বিরোধ নিষ্পত্তিতে এক শুনানির আয়োজন করা হয়। শুনানিতে উপস্থিত সাঁথিয়া ইউএনও সেলিম আহমেদ ছেলেকে আইনি ও মানবিক দিকগুলো বোঝানোর আপ্রাণ চেষ্টা চালান। কিন্তু সাগর হোসেন তাঁর সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। একপর্যায়ে তিনি দাবি করেন, মাকে সঙ্গে রাখতে হলে তাঁর আত্মহত্যা করা ছাড়া কোনো উপায় থাকবে না।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সাগরের বিয়ের পর থেকেই তাঁর স্ত্রী ও মায়ের মধ্যে কোন্দল শুরু হয়। পরবর্তীতে সাগরের বোনও মায়ের পক্ষে অবস্থান নিলে পারিবারিক অশান্তি চরম আকার ধারণ করে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও সমস্যার সমাধান হয়নি।
উল্লেখ্য, মুন্নি খাতুনের স্বামী সিরাজুল ইসলাম বহু আগেই মারা গেছেন। বর্তমানে তিনি স্বামীর ভিটে ছেড়ে মেয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। যদিও এলাকাবাসীর তথ্যমতে, তাঁর নিজের নামে প্রায় ১০ লাখ টাকার জমি রয়েছে। অর্থাৎ বিরোধের নেপথ্যে আর্থিক সংকটের চেয়ে মানসিক ও পারিবারিক টানাপোড়েনই মুখ্য।
এ বিষয়ে নাগডেমরা ইউপি চেয়ারম্যান হাফিজুর রহমান জানান, অতীতের কিছু তিতা অভিজ্ঞতার কারণে সাগরের মনে ক্ষোভ জমে আছে। তবে একমাত্র ছেলে হয়ে মাকে দূরে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয়।
সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেলিম আহমেদ বলেন, "মা-বাবার ভরণপোষণ আইনের বিষয়গুলো বোঝানোর পাশাপাশি মানবিক আবেদন জানানো হলেও সাগরের অবস্থান বদলায়নি। এটি মূলত একটি মানসিক ও পারিবারিক জটিলতা। আমরা এই মুহূর্তে অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে পরবর্তীতে কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করব।"
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড