বিশেষ প্রতিনিধি:
বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চারজন গুরুতর আহতসহ বেশ কয়েকজন সংবাদকর্মী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহসভাপতি আহসান হাবিবসহ কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
আহত সাংবাদিকেরা হলেন— বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান, আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু।
ঘটনার পর পরই হামলার প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়েন ক্যাম্পাসে কর্মরত সাংবাদিকেরা। তাঁরা অবিলম্বে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার দাবিতে আলটিমেটাম দেন। সাংবাদিকদের উত্থাপিত দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১. বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনকে বাদী হয়ে হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে মামলা দায়ের করতে হবে এবং সোমবার (৫ অক্টোবর) বেলা ১২টার মধ্যে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে হবে।
২. হামলায় জড়িত অভিযুক্তদের মধ্যে যাদের ছাত্রত্ব রয়েছে, তাদের দ্রুত ছাত্রত্ব বাতিল এবং যাদের পড়াশোনা শেষ হয়েছে, তাদের একাডেমিক সনদ বাতিল করতে হবে।
৩. বহিরাগত অভিযুক্তদের ক্যাম্পাসে প্রবেশ স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে।
৪. মামলার অগ্রগতি এবং অভিযুক্তদের ছাত্রত্ব বাতিলের বিষয়ে প্রশাসনের নেওয়া সিদ্ধান্ত রোববার রাতের মধ্যেই বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে প্রকাশ করতে হবে।
ঘটনার খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে উপস্থিত হন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপউপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল আলিম, উপউপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মামুনুর রশীদ, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুর রহমান এবং সংশ্লিষ্ট হলের প্রভোস্টসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে সোমবারের মধ্যে মামলা দায়ের করার লিখিত/মৌখিক আশ্বাস দেওয়া হলে সাংবাদিকেরা আপাতত আন্দোলন কর্মসূচি থেকে ফিরে যান। তবে আন্দোলনরত সাংবাদিকেরা জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা না হলে পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হবে।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড