বিশেষ প্রতিনিধি:
দেশে মাদক মহামারি আকার ধারণ করেছে এবং এর সাথে বিভিন্ন অপরাধ গভীরভাবে সম্পৃক্ত বলে মন্তব্য করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ, এমপি। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, যারা মাদক ও অপরাধের সাথে জড়িত, তারা সমাজের দুষ্টু লোক এবং তাদের কোনো রাজনৈতিক পরিচয় নেই। রাজনৈতিক নাম ব্যবহার করে যাতে কেউ কোনো প্রকার অনৈতিক সুবিধা নিতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার সম্পূর্ণ সজাগ রয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সরকার 'জিরো টলারেন্স' নীতি গ্রহণ করেছে এবং এতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নেই। কিশোর গ্যাং ও মাদকসহ সার্বিক অপরাধ নিয়ন্ত্রণে দেশজুড়ে পুলিশি ও এসআরবি টহল বৃদ্ধি করা হচ্ছে। একই সাথে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সারাদেশে নতুন করে ১২৫টি থানা গঠনের পরিকল্পনাও হাতে নেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বিহারী ক্যাম্প প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেখানকার বাসিন্দারা অমানবিক জীবনযাপন করছেন এবং ক্যাম্পটি মাদকের অন্যতম হটস্পটে পরিণত হয়েছে। সেখানে মাদক ছাড়া নানাবিধ অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। বিহারী ক্যাম্পের বাসিন্দাদের দ্রুত পুনর্বাসনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি জোর দিয়ে বলেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে সরকারের কঠোর নীতির পাশাপাশি সামাজিক আন্দোলনকে একসাথে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মাদক এখন আর কেবল অপরাধ নয়, এটি বহুমাত্রিক সামাজিক সংকটে রূপ নিয়েছে। শহর থেকে গ্রাম-গঞ্জে এমনকি অনলাইনে ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে ইয়াবাসহ অন্যান্য মাদক। ক্ষমতার পালাবদলের সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা নিজেদের রূপ বদলে সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি ও মব ক্রাইমে জড়িয়ে পড়ছে। আমরা তরুণদের এই অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিতে পারি না। আমাদের লক্ষ্য—কিশোর ও যুব সমাজ লেখাপড়া, গবেষণা, রোবোটিক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে কাজ করে নতুন যুগের নেতৃত্ব দেবে।
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র ছায়া সংসদ বিতর্ক:
এদিকে “মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে রাজনৈতিক সদিচ্ছার চেয়ে সামাজিক আন্দোলন বেশি কার্যকর” শীর্ষক এক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিযোগিতায় বিরোধী দল 'হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ'কে পরাজিত করে বিজয়ী হয় সরকারি দল 'বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়'।
উক্ত প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, সাংবাদিক জামিউল আহসান শিপু, সাংবাদিক নাদিয়া শারমিন, সাংবাদিক মো: আতিকুর রহমান এবং সাংবাদিক মিরাজ মাহবুব ইফতি। প্রতিযোগিতা শেষে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর হাতে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড