নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা | ৭ অক্টোবর ২০২৬
রাজধানীসহ সারাদেশে রাজউক ও নকশার অনুমোদন না মেনে বা বিধিমালা লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণকারীদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা আনতে একটি নতুন নীতিমালা বা বিধিমালা তৈরি করছে সরকার।
বুধবার (৭ অক্টোবর) রাজধানী বনানীর হোটেল শেরাটনে বণিক বার্তা আয়োজিত ‘স্মার্ট সিটি কনক্লেভ ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এ তথ্য জানান। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বণিক বার্তার সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ।
গণপূর্ত মন্ত্রী বলেন, “যারা প্ল্যান ছাড়া ভবন তৈরি করছেন কিংবা রাজউকের অনুমোদিত প্ল্যানের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কাজ পরিচালনা করেছেন, তাদের একটি সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতে এই বিধিমালা তৈরির কাজ চলছে।”
নগর পরিচালনায় চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স (নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্য) জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী জানান, গত সাত মাসে রাজউকের আদলে ময়মনসিংহ, সিলেট, কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, রংপুর ও বরিশালসহ নতুন ছয়টি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বগুড়াতেও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। সিটি করপোরেশন একা যেন নকশা অনুমোদন ও বাস্তবায়নের একক দায়িত্বে না থাকে, সেজন্য এসব কর্তৃপক্ষ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
ভবন নির্মাণের অনিয়ম ও পরিবেশ দূষণের চিত্র তুলে ধরে জাকারিয়া তাহের বলেন, গুলশান ও বনানী এলাকার প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ ভবনে নকশা অনুযায়ী সেপটিক ট্যাংক বা সোকওয়েল তৈরি করা হয়নি। বর্জ্য সরাসরি ড্রেনে ও লেকে সংযোগ দেওয়ায় পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। গুলশান, বনানী ও হাতিরঝিল লেক রক্ষায় ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একাধিক সমন্বয় সভা করেছেন। পাশাপাশি এসব সমাধানকল্পে স্থানীয় সোসাইটিগুলোর সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে বৈঠক করা হচ্ছে।
ভবন নির্মাণের অনুমোদন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন ব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কেবল আর্কিটেকচারাল প্ল্যান পাস করলেই হবে না; এখন থেকে স্ট্রাকচারাল ও ইলেকট্রিক্যাল নকশাসহ সমন্বিত অনুমোদন দেওয়া হবে। ভবন নির্মাণ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট ডিজাইনারদের সার্টিফিকেশনের পরেই কেবল মিলবে ‘অকুপেন্সি সার্টিফিকেট’।
নগর পরিকল্পনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও জানান, আরবান ডেভেলপমেন্ট অধিদপ্তরের মাধ্যমে একটি ১০ বছর মেয়াদি মাস্টার প্ল্যান নেওয়া হয়েছে। শুরুতে মেট্রোপলিটন সিটিগুলোকে এর আওতায় আনা হলেও পরবর্তীতে বড় শহর থেকে উপজেলা পর্যায় পর্যন্ত এই মাস্টার প্ল্যান সম্প্রসারিত করা হবে।
উক্ত পলিসি কনক্লেভে আবাসন, জ্বালানি, নির্মাণ ও টেকসই নগর পরিকল্পনা বিষয়ের ওপর বিভিন্ন পর্বে বক্তব্য দেন ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী, বিএসএমএ সভাপতি ও ক্রাউন সিমেন্টের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, জিএমইএবি সভাপতি নাসিম বিশ্বাস, বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. ইশতিয়াক আহমেদ এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক ড. আদিল মুহাম্মদ খানসহ শিল্প খাতের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গ।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড