অনলাইন ডেস্ক
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
কোনো ধরনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও আড়ম্বর ছাড়াই নীরবে ফের শুরু হলো মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মালয়েশিয়ার সুপারমার্কেট চেইন ‘এনএসকে ট্রেড সিটি’র চাহিদার ভিত্তিতে ২৮ জন বাংলাদেশি কর্মীর চাহিদাপত্র সত্যায়ন করেছে বাংলাদেশ হাইকমিশন। হাইকমিশন ও রিক্রুটিং এজেন্সি ‘গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেড’ (আরএল-২০৬৮) বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এর মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৩১ মে বন্ধ হওয়ার পর দীর্ঘ বিরতি শেষে দেশটির শ্রমবাজার কার্যত উন্মুক্ত হলো।
কূটনৈতিক তৎপরতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফরের পর শ্রমবাজার চালুর উদ্যোগ গতি পেলেও আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশের অভাবে দেখা দিয়েছে নানা জটিলতা। প্রায় এক মাস আগে মালয়েশিয়া সরকার বিদেশি কর্মী নিয়োগের নতুন ধাপ প্রকাশ করলেও বাংলাদেশে তা যথাযথভাবে প্রচারিত হয়নি। এই তথ্যভিত্তিক শূন্যতার সুযোগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সক্রিয় হয়ে উঠেছে দালাল, মধ্যস্বত্বভোগী ও ভূঁইফোড় রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কাউকে পাসপোর্ট বা টাকা জমা না দিতে এবং মেডিকেল পরীক্ষা না করার পরামর্শ দিয়ে সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।
অতীতে মালয়েশিয়া যেতে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা খরচের অভিযোগ থাকলেও, এবার বাজারে ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা লেনদেনের গুঞ্জন উঠেছে। তবে অভিবাসন ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ‘ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট প্ল্যাটফর্ম’ (ওইপি) চালু করেছে। বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইনের ১৯ ধারা অনুযায়ী, সরাসরি বিএমইটি (BMET) ডাটাবেজ থেকে কর্মী নির্বাচনের আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞ ও চাকরিপ্রত্যাশীদের মতে, বোয়েসেলের (BOESL) মাধ্যমে ঘোষিত ১০ হাজার কর্মীর বিনামূল্যে মালয়েশিয়া যাওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়ন এবং ডাটাবেজভিত্তিক স্বচ্ছ নিয়োগ নিশ্চিত করা না গেলে পুরোনো সিন্ডিকেট ও অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড