বিশেষ প্রতিনিধি | রাজশাহী
রাজশাহী মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (রামেবি) উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক ও তার একান্ত সচিব (পিএস) নাজমুল হোসাইনকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে নজিরবিহীন এ ঘটনার পর থেকে ক্যাম্পাসজুড়ে চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। চরম নিরাপত্তাহীনতার কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কর্মস্থলে এলেও কোনো দাপ্তরিক কাজ পরিচালনা করতে পারছেন না বলে জানা গেছে।
ঘটনার বিবরণ ও বিক্ষোভ কর্মসূচী
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার দুপুরের দিকে রামেবির অস্থায়ী কার্যালয়ের সামনে ‘রাজশাহীর আপামর ছাত্র-জনতা’র ব্যানারে ভিসিকে ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি—অনিয়ম, দুর্নীতি এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের সঙ্গে ভিসির ঘনিষ্ঠ সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
কর্মসূচিসূত্রে প্রত্যক্ষদর্শী কর্মকর্তারা জানান, আন্দোলন চলাকালে বিক্ষুব্ধরা ‘জ্বালোরে জ্বালো, আগুন জ্বালো’, ‘জ্বালিয়ে দাও, পুড়িয়ে দাও, আওয়ামী লীগের আস্তানা’ এবং ‘আওয়ামী লীগের দোসর ভিসি, হুঁশিয়ার সাবধান’সহ নানা উসকানিমূলক স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে জোরপূর্বক পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর নিয়ে উপাচার্যকে অফিস কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়। এ সময় উপাচার্যকে রক্ষা করতে গেলে তার পিএস নাজমুল হোসাইনকে শারীরিক লাঞ্ছনা ও মারধরের পর জোরপূর্বক পদত্যাগ করানো হয় বলে অভিযোগ ওঠে।
কর্মকর্তাদের শঙ্কা ও ক্যাম্পাসের স্থবিরতা
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্টার ডা. মোফাখখারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “জোর করে পদত্যাগ করানোর পর থেকেই পুরো ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল ও থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। সহকর্মীরা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কার্যালয়ে উপস্থিত হলেও নিরাপত্তার অভাবে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে পারছেন না।”
সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য
ঘটনার পরদিন বিকেলে নিজ বাসভবনের (বাংলো) সামনে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য অধ্যাপক ডা. জাওয়াদুল হক ঘটনাটিকে নজিরবিহীন এবং প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ওপর চরম আঘাত বলে উল্লেখ করেন। এ সময় জোরপূর্বক নেওয়া পদত্যাগের আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এর সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির জোর দাবি জানান তিনি।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড