বিশেষ প্রতিনিধি, বরিশাল
প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬
বরিশাল সদর উপজেলায় মাদকের আসর থেকে নারীসহ আটক পুলিশ সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) দেলোয়ার হোসেন থানা পুলিশি হেফাজত থেকে পালিয়ে গেছেন। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা ও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার আগেই এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তাকে পুনরায় গ্রেপ্তারে ইতোমধ্যে জোর অভিযান শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ভোররাতে সদর উপজেলার রায়পাশা-কড়াপুর ইউনিয়নের পাঁচগাঁও গ্রামে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) এক অভিযানে এএসআই দেলোয়ারসহ চারজন আটক হন। আটক বাকি তিনজন হলেন—বাগেরহাটের নোয়াপাড়ার বাসিন্দা নাহিদ হাসান (২৮), পাঁচগাঁও গ্রামের মিরাজুল ইসলাম (৩৪) এবং ফাতেমা আক্তার নুরতাজ (৩০)।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বরিশাল জেলা কার্যালয়ের পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম জানান, পাঁচগাঁও গ্রামের বাসিন্দা মিরাজের বাসায় দীর্ঘদিন ধরে মাদকের আসর বসত—এমন সংবাদের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার ভোরে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানকালে আসামিরা পালানোর চেষ্টা করলে তাদের আটক করা হয়। সেখান থেকে ইয়াবা সেবনের ব্যবহৃত ফয়েল পেপার, লাইটারসহ বিপুল পরিমাণ মাদক সেবনের সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
আটকের পর অভিযুক্তদের বরিশাল মেট্রোপলিটনের এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরবর্তীতে ডোপটেস্টে আটক দুজনের শরীরে ইয়াবা সেবনের প্রমাণ পাওয়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের ২০ দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তবে অভিযুক্ত এএসআই দেলোয়ারের বিরুদ্ধে বিভাগীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন থাকা অবস্থায়ই তিনি কৌশলে থানা থেকে পালিয়ে যান।
এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, অভিযুক্ত এএসআই দেলোয়ার হোসেনকে ইতোমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তিনি খুলনা সদরের শেরেবাংলা রোড এলাকার মো. সাখাওয়াত হোসেন সিকদারের ছেলে এবং বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের এয়ারপোর্ট থানায় কর্মরত ছিলেন।
ওসি আরও বলেন, "থানা হেফাজত থেকে তিনি কীভাবে পালালেন, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে তাকে দ্রুত গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযানে নেমেছে।"
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড