নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা:
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার খন্দকার গোলাম ফারুক এবং তার স্ত্রী শারমিন আক্তার খানের নামীয় বিপুল পরিমাণ স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক ও ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের শুনানির পর ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক আয়েশা আক্তার মৌসুমী এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, বিচারকের আদেশ অনুযায়ী খন্দকার গোলাম ফারুকের একক নামে থাকা ১ কোটি ৩৩ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক এবং পাঁচটি ব্যাংক হিসাবে থাকা ১ কোটি ৩৫ লাখ ৭৭ হাজার টাকা অবরুদ্ধ করা হবে। একই সাথে, গোলাম ফারুক ও তার স্ত্রী শারমিন আক্তার খানের যৌথ মালিকানাধীন ১ কোটি ৫১ লাখ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পত্তি ক্রোক এবং তাদের দুটি যৌথ ব্যাংক হিসাবে থাকা ১২ লাখ ২ হাজার ৫০০ টাকা ফ্রিজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা যায়, সাবেক এই শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অনুসন্ধান চলাকালে সংগৃহীত রেকর্ডপত্র এবং আয়কর নথি পর্যালোচনা করে প্রাথমিক প্রমাণ মেলে।
আদালতে পেশ করা দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়, পারিবারিক ব্যয়সহ খন্দকার গোলাম ফারুকের মোট সম্পদের পরিমাণ ৪ কোটি ১৩ লাখ ২৩ হাজার টাকা (দায়-দেনা বাদ দিয়ে নিট সম্পদ ৩ কোটি ৭৬ লাখ ৪৩ হাজার টাকা এবং পারিবারিক ব্যয় ৩৬ লাখ ৭৯ হাজার টাকা)। অথচ তার গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ পাওয়া গেছে ২ কোটি ৮৫ লাখ ৪১ হাজার টাকা। অর্থাৎ, আয়ের উৎসের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ ১ কোটি ২৭ লাখ ৮২ হাজার টাকার সম্পদ তিনি অবৈধভাবে অর্জন করেছেন বলে প্রতীয়মান হয়েছে।
সম্পদ পাচার বা হস্তান্তর রোধ করতেই দুদকের পক্ষ থেকে এই ক্রোক ও ফ্রিজের আবেদন করা হয় বলে জানা গেছে।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড