আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর ২০২৬
ভারতে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী দাবি করেছেন যে, বর্তমান নরেন্দ্র মোদি সরকারের পতন এখন কেবল সময়ের ব্যাপার। আর সরকারের পতনের পরই দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের কাজ শুরু হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সম্প্রতি ভারতের নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য ও ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিতর্ককে কেন্দ্র করে সরগরম হয়ে উঠেছে দেশটির রাজনীতি। গত ১০ মাসে নির্বাচন কমিশনের দুজন কমিশনার ভোটার তালিকার বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন—এমন একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই মোদি সরকারের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলো।
সংসদের সংবিধান সদনের সেন্ট্রাল হলে 'ইন্ডি' (INDIA) জোটের সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে রাহুল গান্ধী বলেন, "বর্তমান পরিস্থিতি কেবল একজন নির্বাচন কমিশনারকে সরানোর চেয়ে অনেক বড় ও গভীর সংকটের ইঙ্গিত দেয়। এই রাজনৈতিক সংকট থেকে মুক্তি পেতে হলে বর্তমান সরকারের পতন ঘটানো জরুরি।"
তিনি আরও জানান, বিরোধী দলগুলোর সাম্প্রতিক ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ফলে সরকার চাপের মুখে পড়েছে এবং ভেতরে ভেতরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম 'এক্স'-এ (সাবেক টুইটার) দেওয়া একটি পোস্টে রাহুল গান্ধী লেখেন, "জ্ঞানেশ কুমার (প্রধান নির্বাচন কমিশনার) যাবেন, এই সরকারও যাবে; আর তারপরই শুরু হবে গণতন্ত্র মেরামতের কাজ।" এই আন্দোলনকে ভারতের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার এক ঐতিহাসিক লড়াই হিসেবে অভিহিত করে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, বিরোধীরা এই চাপ বজায় রাখতে পারলে সরকারের পতন ঠেকানো সম্ভব হবে না।
অন্যদিকে, বিতর্কের মুখে নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়েছে যে, বড় সংস্থায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে মতপার্থক্য থাকা একটি স্বাভাবিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং কমিশনের সমস্ত নির্দেশনা সম্পূর্ণ আইনসম্মতভাবেই গৃহীত হয়েছে। তবে কমিশনের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট না হয়ে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধী জোট মোদি সরকারের ওপর রাজনৈতিক চাপ আরও বৃদ্ধি করছে।
(সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস)
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড