ঢাকা: আদালতে সংবাদ সংগ্রহের সময় অর্ধশতাধিক গণমাধ্যমকর্মীকে ভেতরে প্রবেশে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে ‘নিন্দনীয়’ উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আসামিপক্ষের আইনজীবী, অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের দাবি—আসামির আচরণের কারণে আদালতের নির্দেশেই সবাইকে বের করে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ থেকে জানা যায়, আসামি আখতারুজ্জামানকে আদালতে হাজির করার সংবাদ সংগ্রহ করতে শনিবার অর্ধশতাধিক সাংবাদিক আদালত প্রাঙ্গণে আসেন। তবে আদালত ভবনের প্রবেশদ্বার থেকেই পুলিশ সদস্যরা সাংবাদিকদের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেন। পরবর্তীতে প্রধান ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করতে পারলেও শেষ পর্যন্ত এজলাস কক্ষে সাংবাদিকদের ঢুকতে দেওয়া হয়নি।
নিষেধাজ্ঞার কারণ জানতে চাইলে দায়িত্বে থাকা এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ঘটনার বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মহীউদ্দিন মাহমুদ সোহেলের বক্তব্য জানতে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
তবে সংবাদ সংগ্রহের জন্য এজলাসে আগে থেকেই উপস্থিত ছিলেন বেসরকারি টেলিভিশন স্টার নিউজের নিজস্ব প্রতিবেদক তসলিম হোসেন রনি। তিনি পরবর্তীতে সময় সংবাদকে জানান, আখতারুজ্জামানকে আদালতে তোলার পর ডিসি মহীউদ্দিন তাকে এজলাস কক্ষ ত্যাগ করতে বলেন। কারণ জানতে চাইলে ডিসি জানান, ‘এটা আদালতের নির্দেশ।’
শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী আব্দুর রাজ্জাক পুলিশের এই ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করে বলেন, “আজকে ডিসি প্রসিকিউশন সাংবাদিক ও আইনজীবীদের আদালত এমনকি বারান্দাতেও ঢুকতে দেননি। এটি অত্যন্ত নিন্দনীয় ঘটনা। কোনো কিছু গোপন করার উদ্দেশ্যে সাংবাদিকদের ওপর এই বিধিনিষেধ (এমবারগো) দেওয়া হয়েছে কি না, তা আমার জানা নেই। ভবিষ্যতে যেন এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে বিষয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।”
তবে আসামিপক্ষের অভিযোগ অস্বীকার করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী ভিন্ন কথা জানিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, “সাংবাদিকদের প্রবেশে ডিসি প্রসিকিউশন নিজে থেকে কোনো বাধা দেননি। শুনানিকালে প্রসিকিউশন, বিচারক ও পুলিশের প্রতি আসামি অত্যন্ত মারমুখী আচরণ করেন। একপর্যায়ে আসামি নিজেই বলেন—আইনজীবী ছাড়া যেন কেউ আদালতে না থাকেন। তার এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই বিচারক সবাইকে কক্ষ থেকে বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন।”
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড