(বগুড়া) প্রতিনিধি:
বগুড়ার ধুনটে সিসিটিভি ক্যামেরাযুক্ত মোবাইল দোকানে চুরির মামলায় গ্রেপ্তারকৃত ৮ আসামির সঙ্গে থানায় সাক্ষাৎ করতে এসে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের পর চোরচক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ততার আশঙ্কায় তাদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার দুলারামপুর গ্রামের মফিজুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মাদ মোস্তফা (৪০) এবং কেমতলী গ্রামের ধনু চৌধুরীর ছেলে বাবুল চৌধুরী (৪৮)। শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরে তাদের আদালতের মাধ্যমে বগুড়া জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুল ইসলাম জানান, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাতে থানায় রিমান্ডে থাকা ৮ আসামির সঙ্গে দেখা করতে আসেন মোস্তফা ও বাবুল। বিষয়টি পুলিশ সদস্যদের সন্দেহজনক মনে হলে তাদের আটক করে রিমান্ডে থাকা আসামিদের সামনে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। প্রাথমিক অনুসন্ধানে চক্রটির সঙ্গে তাদের যোগসাজশের আলামত পাওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি ধুনট উপজেলা সদরের 'ইছামতী ডিজিটাল কমপ্লেক্স' মার্কেটের ‘মাসুদ টেলিকম’ নামের একটি দোকান থেকে ৯৪টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন চুরি হয়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৩৫ লাখ টাকা। ঘটনার পর পরই অভিযানে নেমে মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে চোরচক্রের সক্রিয় ৮ সদস্যকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। উদ্ধার করা হয় চুরি যাওয়া সবকটি মোবাইল ফোন।
এ ঘটনায় দোকানের মালিক মাসুদ রানা বাদী হয়ে ধুনট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারকৃত প্রথম ৮ আসামি হলেন—চট্টগ্রামের আল আমিন (৩০), আক্কাস আলী (৩৫) ও হৃদয় (৩৪); নরসিংদীর ইমরান (৩০); ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ইয়াছিন আরাফাত (৩৮) এবং কুমিল্লার রবিউল ইসলাম (৩৩), আলা উদ্দিন (২৫) ও ইস্রাফিল রহমান (২৭)। পুলিশ জানিয়েছে, তারা সবাই আন্তঃজেলা চোরচক্রের সদস্য এবং বর্তমানে পুলিশ রিমান্ডে রয়েছে।
ধুনট থানার ওসি আতিকুল ইসলাম জানান, নবগ্রেপ্তারকৃত মোস্তফা ও বাবুল চোরচক্রের সরাসরি সদস্য কি না বা তাদের অন্য কোনো পরিকল্পনা ছিল কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাদের ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড