নিজস্ব প্রতিবেদক | বিশেষ প্রতিবেদন
চট্টগ্রাম, সন্দ্বীপ: প্রকৃতির নির্মম গ্রাসে সর্বস্ব হারানোর বেদনা নতুন নয় সন্দ্বীপের বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উড়িরচরের বাসিন্দাদের জন্য। তবে এবার ভাঙনের আকস্মিকতায় ভেসে গেছে মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল ও স্মৃতির শেষ চিহ্ন—প্রিয়জনদের কবর। কয়েক দিনের নদীভাঙনে কলোনি বাজার মসজিদের কবরস্থানটি সম্পূর্ণ সাগরে বিলীন হয়ে যাওয়ায় মানবেতর ও শোকস্তব্ধ সময় পার করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
গত মঙ্গলবার বিকেলে ৬২ বছর বয়সী জাকির হোসেন এসে দেখতে পান, তাঁর বাবা মোড়া মো. আলাউদ্দিনের কবরটির আর কোনো অস্তিত্ব নেই। ২০১২ সালে মারা যাওয়া বাবাকে কলোনি বাজার মসজিদের কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল। প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর সেখানে গিয়ে জিয়ারত করতেন তিনি।
মাত্র চার দিন আগেও যেখানে কবর জিয়ারত করেছিলেন, সেখানে এখন শুধুই সাগরের উন্মত্ত ঢেউ। জাকির হোসেনের মতো এমন শত শত মানুষ এখন তাঁদের মা-বাবা, ভাই-বোন ও স্বজনদের কবর হারিয়ে দিশাহারা। দ্বীপটির বহু মানুষ জীবনের তাগিদে তিন-চারবার ভিটেমাটি পরিবর্তন করেও টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে গেছেন, কিন্তু আপনজনের কবর হারিয়ে এই ক্ষত তাঁদের মনে স্থায়ী পাথর হয়ে চেপে বসেছে।
কবরস্থান ছাড়াও উড়িরচরের অত্যন্ত পরিচিত কলোনি বাজার মসজিদ বর্তমানে ভাঙনের মুখে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। ইতিমধ্যে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে স্থানীয় লোকজন ইট খুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন, যাতে পরবর্তীতে অন্য কোথাও মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করা যায়।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে উড়িরচরের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দ্বীপবন্ধু মুস্তাফিজুর রহমান মাদ্রাসা ও উড়িরচর মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ পুরো কলোনি বাজার যেকোনো মুহূর্তে সাগরে বিলীন হয়ে যাবে। নিঃস্ব ও সহায়হীন এসব মানুষের কান্না দেখার বা শোনার যেন কেউ নেই।
এ বিষয়ে সন্দ্বীপের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমজাদ হোসেন জানান, তিনি নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে ভাঙনের তীব্রতা দেখেছেন এবং রাতারাতি মানুষ কীভাবে সর্বস্ব হারাচ্ছে তা প্রত্যক্ষ করেছেন। ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে দ্রুত এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রিন্ট করুন ফটো কার্ড