ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার পর দলটির নতুন নেতৃত্ব নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গন ও নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক তোড়জোড় শুরু হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে নতুন কমিটি ঘোষণার কথা থাকায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক—এই দুই শীর্ষ পদে কারা আসছেন, তা নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ।
দলীয় সূত্র ও বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, থানা-ওয়ার্ড পর্যায়ে সাংগঠনিক দক্ষতা, যোগাযোগ এবং সর্বোপরি বিতর্কমুক্ত ভাবমূর্তিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে সম্প্রতি মিরপুরের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর বিতর্কিত নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ায়, এবার শৃঙ্খলা রক্ষা ও দলের ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে সক্ষম নেতাদেরই হাইকমান্ড প্রাধান্য দেবে বলে আভাস পাওয়া গেছে।
শীর্ষ পদ নিয়ে যাদের নাম আলোচনায়
নেতাকর্মীদের প্রত্যাশা ও শীর্ষ নেতাদের বক্তব্য
সভাপতি পদের অন্যতম প্রার্ত্থী ও সদ্য বিলুপ্ত কমিটির নেতা এস এম জাহাঙ্গীর বলেন, "কমিটি যেহেতু ভেঙে দেওয়া হয়েছে, দলীয় কার্যক্রম গতিশীল করতে নতুন নেতৃত্ব প্রয়োজন। আশা করি, দুর্দিনে যারা দল ছেড়ে যাননি এবং সুদিনে চরিত্র হারাননি—এমন পরীক্ষিত ও সৎ নেতাদের হাতেই দায়িত্ব আসবে। দল যে দায়িত্ব দেবে, তা সর্বোচ্চ দিয়ে পালন করব।"
যুবদলের সাবেক নেতা মামুন হাসান বলেন, "পদের দায়িত্ব হলো এক ধরনের আমানত। ঢাকা মহানগরী বিএনপির রাজনীতিতে কাজ করার ইচ্ছা বা স্বপ্ন সবারই থাকে, আমারও আছে। নিষ্ঠাবান ও দক্ষ নেতৃত্বই এই গুরুত্বপূর্ণ শাখার হাল ধরবে বলে বিশ্বাস করি।"
অন্যদিকে, দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে নির্বাচন করায় বহিষ্কৃত হলেও মাঠের অবদান ও জনপ্রিয়তার কারণে আলোচনায় থাকা সাইফুল আলম নীরব জানান, "আমি খালেদা জিয়া ও শহীদ জিয়ার সৈনিক। আমার জন্ম ও রাজনীতি ঢাকায়। ঢাকার মহানগর বিএনপির ব্যাপারে কেন্দ্র থেকে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সেটাই চূড়ান্ত।"
রাজধানীর রাজনীতি ও প্রশাসনিক দিক থেকে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখা। ফলে থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, নেতাকর্মীদের মধ্যে সমন্বয় তৈরি এবং তৃণমূল পর্যন্ত শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই হবে নতুন কমিটির মূল চ্যালেঞ্জ। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের জন্য এখন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের ঘোষণার দিকেই তাকিয়ে আছেন সংশ্লিষ্টরা।