Logo
প্রিন্টের তারিখ: 17 October 2026 | প্রকাশের তারিখ: Oct 18, 2026

সংবাদ শিরোনাম : ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, সাক্ষী হাজির করতে সিএমপির জরুরি চিঠি

৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, সাক্ষী হাজির করতে সিএমপির জরুরি চিঠি


​বিশেষ প্রতিবেদক:

বিভিন্ন মামলায় নির্ধারিত সময়ে সাক্ষ্য দিতে হাজির না হওয়ায় চট্টগ্রাম নগর পুলিশে কর্মরত ও দেশের বিভিন্ন ইউনিটে বদলি হওয়া প্রায় ৭০০ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত। এসব সাক্ষী অনুপস্থিত থাকার কারণে বিচারকাজ দীর্ঘায়িত ও মামলা নিষ্পত্তিতে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন আদালতসংশ্লিষ্টরা।

​চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, সাক্ষীদের তালিকায় কনস্টেবল থেকে শুরু করে বিভিন্ন পদমর্যাদার পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন। তারা একসময় চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা, কোতোয়ালি, খুলশী, হালিশহর, চকবাজার, বাকলিয়া, পাঁচলাইশসহ বিভিন্ন থানায় কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তারা চট্টগ্রামসহ ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, সিলেট, কক্সবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, সুনামগঞ্জ, ময়মনসিংহ ও চাঁদপুরের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত। এছাড়া সিআইডি, পিবিআই, নৌ পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও এসবির মতো বিশেষায়িত ইউনিটেও অনেকে দায়িত্ব পালন করছেন।

​পরিস্থিতি সামাল দিতে এবং সাক্ষীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সিএমপি থেকে দেশের বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটে ‘অতীব জরুরি’ চিঠি পাঠানো হচ্ছে। গত ৩ অক্টোবর সিএমপির উপকমিশনার (সদর) দপ্তর থেকে ১৮টি পৃথক স্মারকে সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোতে চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে সংশ্লিষ্ট সদস্যদের নির্ধারিত দিনে সকাল ৯টায় আদালতে হাজিরা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

​সিএমপির দাপ্তরিক চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, এসব সাক্ষীর বিরুদ্ধে একাধিকবার সমন, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং সর্বশেষ জামিন অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হওয়া সত্ত্বেও তারা আদালতে উপস্থিত হননি। এতে মামলার নিষ্পত্তিতে মূল অন্তরায় সৃষ্টি হচ্ছে। নির্ধারিত তারিখে সাক্ষী হাজির না হলে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৮৫(ক) ধারা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।

​সাধারণ মামলার পাশাপাশি গুরুতর অপরাধের মামলাগুলোতেও পুলিশ সাক্ষীদের অনুপস্থিতির কারণে বিচারিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হচ্ছে। গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ সালের একটি হত্যা মামলায় সাক্ষীর অনুপস্থিতির প্রেক্ষিতে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ তৃতীয় আদালত চট্টগ্রাম পুলিশ কমিশনারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।

​বর্তমানে এসব মামলা চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালত, অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত, চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত ও শিশু আদালতসহ বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। আগামী অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে এসব মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য রয়েছে।

বাস্তব কন্ঠ
Developed by ZapStudio Network
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF