আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং দেশটির পূর্বাঞ্চলের তেলসমৃদ্ধ খুরাইস এলাকায় রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর বেশ কয়েকটি স্থাপনা লক্ষ্য করে বড় ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথি। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বিবৃতিতে হামলার দায় স্বীকার করেছেন হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি। তিনি দাবি করেন, সফল ও সুনির্দিষ্ট আক্রমণের ফলে লক্ষ্যবস্তু করা তেল স্থাপনাগুলোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার দেশজুড়ে হুথি দখলকৃত ভূখণ্ড পুনরুদ্ধারে নতুন সামরিক অভিযানের ঘোষণা দেওয়ার পরপরই সৌদি আরবে এই পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটল। ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল লিডারশিপ কাউন্সিলের প্রধান রশাদ আল-আলিমি সম্প্রতি ইয়েমেন প্রজাতন্ত্রের অবশিষ্ট অংশ উদ্ধার এবং সরকারের নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার ঘোষণা দিয়ে সরকারি বাহিনীকে চূড়ান্ত লক্ষ্য অর্জন না হওয়া পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
এদিকে, ইয়েমেনের পশ্চিমাঞ্চলে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের মাধ্যমে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছে হুথিরা। দেশটির নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা তায়েজ শহরের সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন রাজধানী এডেনের সংযোগকারী প্রধান সরবরাহ পথটি বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি। তায়েজের এই অবরোধ ও অগ্রগতি বর্তমান ইয়েমেন সরকারকে চরম সামরিক চাপে ফেলেছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে হুথিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করার পর থেকেই সানা সহ দেশের একটি বড় অংশ তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। জাতিসংঘ সমর্থিত ইয়েমেন সরকারকে সামরিক সহায়তা দিয়ে আসছে সৌদি আরব, অন্যদিকে হুথিদের মদদ দিচ্ছে ইরান। বহু বছরের এই সংঘাত কেবল বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ মানবিক সংকটের জন্ম দেয়নি, বরং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মানদেব প্রণালির নিকটবর্তী হওয়ায় পুরো বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতায় মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে।