Logo
প্রিন্টের তারিখ: 17 October 2026 | প্রকাশের তারিখ: Oct 18, 2026

সংবাদ শিরোনাম : ৫০০ কোটি টাকা বিদ্যুৎবিল, জিএম বরখাস্ত, গ্রাহককে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ মন্ত্রী

৫০০ কোটি টাকা বিদ্যুৎবিল, জিএম বরখাস্ত, গ্রাহককে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ মন্ত্রী

মাগুরা:

২৩৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ টাকার ভূতুড়ে বিল পাওয়ার ঘটনায় সারা দেশে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের জরুরি নির্দেশে ইতোমধ্যে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী গ্রাহকের কাছে ফোন করে দুঃখ প্রকাশ করেছেন মন্ত্রী।

​মাগুরা সদর উপজেলার মঘি ইউনিয়নের কেচুয়াডুবি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শহীদুল ইসলামের স্ত্রী মোছা. আলেয়া খাতুনের নামে সেপ্টেম্বর মাসের এই অবাস্তব বিলটি ইস্যু করা হয়।

​বিলের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ আগস্ট মিটারের পূর্ববর্তী রিডিং ছিল ১৬০ এবং ৮ সেপ্টেম্বর বর্তমান রিডিং দাঁড়ায় ৩৯৫। অর্থাৎ এক মাসে বিদ্যুতের ব্যবহার ছিল ২৩৫ ইউনিট, যার প্রকৃত বিল হওয়ার কথা ছিল মাত্র ১ হাজার ৯৬৩ টাকা। কিন্তু পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিলিং কাগজে এই ২৩৫ ইউনিটের বিপরীতে স্বাভাবিক বিলের পাশাপাশি ‘ডিমান্ড চার্জ’ হিসেবে বসানো হয় ৪৮২ কোটি ৬৯ লাখ ৬৩ হাজার ৪২২ টাকা! এর সঙ্গে ২৪ কোটি ১৩ লাখ ৪৮ হাজার ১৭১ টাকা ভ্যাট ও ১০ টাকা মিটার ভাড়া যোগ করে মোট বিল দাঁড়ায় ৫০৬ কোটি ৮৩ লাখ ১১ হাজার ৫ঘ৯৩ টাকা। নির্ধারিত সময়ে পরিশোধ না করলে বিলম্ব মাশুলসহ বিল দাঁড়াত ৫৩০ কোটি ৯৬ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৪ টাকা। গত ১০ সেপ্টেম্বর ইস্যু করা ‘এলটি-এ (আবাসিক)’ শ্রেণির এই বিলটির পরিশোধের শেষ সময় ছিল আজ ২৯ সেপ্টেম্বর।

​অবাস্তব এই বিল হাতে পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে গ্রাহক আলেয়া খাতুন বলেন, "এটা শুধু ভূতুড়ে বিল নয়, আজগুবিও। বিদ্যুৎ বিভাগের খামখেয়ালিপনার কারণে গ্রাহকের দুশ্চিন্তা ও ভোগান্তি বাড়ছে। এ ধরনের ভুলের কঠোর প্রতিকার হওয়া জরুরি।"

​ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের নজরে আসে। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডকে (আরইবি) তদন্ত করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

​পরবর্তীতে মন্ত্রী নিজেই ভুক্তভোগী গ্রাহক আলেয়া খাতুনকে ফোন করে অনিচ্ছাকৃত এই ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন। তিনি গ্রাহককে জানান, ইতোমধ্যে বিলটি সংশোধন করে সঠিক বিল (১,৯৬৩ টাকা) পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন যেকোনো সমস্যায় পড়লে সরাসরি কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্যও তিনি অনুরোধ করেন।

​অস্বাভাবিক এই বিলের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আড়পাড়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. রেজাউল করিম বলেন, "গ্রাহকের মিটার পরিবর্তন করার সময় ভুলবশত মিটারের সিল নম্বরের ডিজিটগুলো সফটওয়্যারে ডিমান্ড চার্জের ঘরে পোস্টিং হয়ে যায়। যার ফলে এই অস্বাভাবিক বিলটি তৈরি হয়েছিল।"

বাস্তব কন্ঠ
Developed by ZapStudio Network
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF