আন্তর্জাতিক ডেস্ক
চলমান যুদ্ধের অবসান হলেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে শাস্তির আওতায় আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ মুখপাত্র জেনারেল আবুল ফজল শেকারচি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সম্প্রচারিত এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন। ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
শেকারচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ও উসকানি সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। তেহরানের অনুমোদন ছাড়া কোনো জাহাজ ওই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে নিরাপদে চলাচল করতে পারবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
ইরানের এই সামরিক মুখপাত্র দেশটির ১৯৮০-এর দশকের ইরান-ইরাক যুদ্ধের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, ওই যুদ্ধ ইরানের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে ইরান প্রচলিত যুদ্ধকৌশলের পাশাপাশি অসম যুদ্ধকৌশলের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শেকারচির ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ইরান আগের তুলনায় অনেক বেশি সামরিক সক্ষমতা অর্জন করেছে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রযুক্তিতে দেশটির সক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ভবিষ্যতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো আগ্রাসন হলে নতুন সামরিক প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে চমকে দেওয়ার সক্ষমতা তেহরানের রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রতিবেশী মুসলিম দেশগুলোর প্রসঙ্গে শেকারচি দাবি করেন, ইরান এসব দেশের সার্বভৌমত্বে হামলা করেনি। তাঁর ভাষ্য, ইরানের পাল্টা হামলার লক্ষ্য ছিল এসব দেশের ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন স্বার্থ ও সামরিক স্থাপনা।
হরমুজ প্রণালি নিয়েও কঠোর বার্তা দেন ইরানের এই জ্যেষ্ঠ সামরিক মুখপাত্র। তিনি বলেন, ইরানের নির্ধারিত রুটের বাইরে দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচলের চেষ্টা করলে সেটি নিরাপদ থাকবে না। একই সঙ্গে ওই জলপথে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করলে তার জবাব দেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
শেকারচি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে পশ্চিম এশিয়ায় তার আগের অবস্থান পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ দেবে না তেহরান। তাঁর মতে, অঞ্চল থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করাই ওয়াশিংটনের জন্য নিরাপদ পথ।
ইরানের সামরিক মুখপাত্রের এসব বক্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত স্পর্শকাতর অবস্থায় রয়েছে। যুদ্ধের অবসান হলেও এর রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগত প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
সূত্র: মেহের