বিশেষ প্রতিনিধি | জাতিসংঘ সদর দপ্তর
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণ বয়কট করে নজিরবিহীন কূটনৈতিক প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্তত ৭০টি দেশ। নেতানিয়াহু ভাষণ দিতে মঞ্চে ওঠার পরপরই বাংলাদেশ, সৌদি আরব, তুরস্ক, ফিলিস্তিন, ইরান, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ব্রাজিল ও স্পেনের প্রতিনিধিরা একযোগে অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ (ওয়াকআউট) করেন। মুহূর্তের মধ্যেই সাধারণ পরিষদ মিলনায়তনের একটি বিশাল অংশ ফাঁকা হয়ে যায়।
তুরস্কের আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির এক বিশ্লেষণে জানানো হয়, বৈশ্বিক এই আসরে বিশ্বনেতাদের বড় একটি অংশ হয় সরাসরি ওয়াকআউট করে, না হয় নিজ নিজ আসন খালি রেখে এই নীরব ও জোরালো প্রতিবাদ জানান।
কূটনীতিকদের এই নজিরবিহীন গণ-ওয়াকআউটের মুখেও ভাষণ অব্যাহত রাখেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। তিনি গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর গণহত্যা চালানোর অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে দাবি করেন, তার দেশ মূলত গণহত্যা রোধেই কাজ করছে। একই সঙ্গে কক্ষ ত্যাগকারী কূটনীতিকদের "ভণ্ড মানবাধিকার আন্দোলনকারী" বলে কটাক্ষ করেন এবং গ্যালারিতে অবস্থানরত অন্যান্যদের "কাপুরুষ" বলে আখ্যা দেন।
ভাষণে নেতানিয়াহু নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানির তীব্র সমালোচনা করেন। মেয়র মামদানি ইতিপূর্বে গাজায় ইসরায়েলি হামলার কঠোর বিরোধিতা করেছিলেন এবং নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার পক্ষে প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়েছিলেন।
নেতানিয়াহুর বক্তব্যের তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধ ধামাচাপা দিতেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের সর্বোচ্চ মঞ্চকে অসত্য বক্তব্যের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো মিথ্যাই এই বাস্তবতাকে আড়াল করতে পারবে না যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে নেতানিয়াহু একজন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধী এবং তিনি গ্রেপ্তারি পরোয়ানার মুখোমুখি হয়ে আছেন।
এদিকে সাধারণ পরিষদের ভেতরের এই উত্তপ্ত কূটনৈতিক প্রতিবাদের সমান্তরালে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনজুড়ে দেখা গেছে তীব্র জনবিক্ষোভ। 'জুয়িশ ভয়েস ফর পিস'-সহ একাধিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের আহ্বানে শত শত বিক্ষোভকারী জাতিসংঘের নিকটস্থ গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো অবরুদ্ধ করে ফেলে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিউ ইয়র্ক পুলিশ কঠোর অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় আন্তর্জাতিক স্তরের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিসহ শতাধিক বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়।