Logo
প্রিন্টের তারিখ: 17 October 2026 | প্রকাশের তারিখ: Oct 18, 2026

সংবাদ শিরোনাম : সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে ঘুষ নেয়ার কথা আদালতে স্বীকার করলেন কর্মচারীরা

সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে ঘুষ নেয়ার কথা আদালতে স্বীকার করলেন কর্মচারীরা

বিশেষ সংবাদদাতা | চট্টগ্রাম

​চট্টগ্রামের পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে দুই লাখ টাকা ঘুষসহ গ্রেপ্তার হওয়া দুই কর্মচারী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে তাঁরা জানান, কার্যালয়ের সাবরেজিস্ট্রারের প্রত্যক্ষ নির্দেশে ও তাঁর জন্যই এই ঘুষের টাকা লেনদেন করা হয়েছিল।

​বুধবার রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলমগীর হোসেনের খাস কামরায় এ জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। জবানবন্দি দেওয়া দুই কর্মচারী হলেন—পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ের প্রধান অফিস সহকারী (হেড ক্লার্ক) ফারুক ইসলাম এবং উমেদার রূপণ দাশ।

​আদালত সূত্রে জানা যায়, জবানবন্দিতে হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম স্বীকার করেন যে, সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহানের নির্দেশে তিনি দুই লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেছিলেন। ওই টাকা উমেদার রূপণ দাশের মাধ্যমে সাবরেজিস্ট্রারের কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল। এরই মধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি দল সেখানে অভিযান চালিয়ে ঘুষের টাকাসহ তাঁদের গ্রেপ্তার করে।

​উমেদার রূপণ দাশ তাঁর জবানবন্দিতে জানান, তিনি দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে সেখানে কর্মরত। যে দলিলটি নিবন্ধনের জন্য ঘুষ নেওয়া হয়েছিল, সেটির নির্ধারিত সরকারি ফি ছিল ১৫ হাজার টাকা। দলিলটিতে আইনগত কোনো ত্রুটি না থাকা সত্ত্বেও সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে অতিরিক্ত দুই লাখ টাকা ঘুষ দাবি করা হয়। চুক্তিকৃত ঘুষের মধ্যে প্রথমে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা গ্রহণ করা হয়। বাকি ২০ হাজার টাকা দলিলদাতার বাসায় গিয়ে কমিশন নিবন্ধনের সময় নেওয়ার কথা ছিল।

​ঘটনার বিবরণে জানা যায়, সম্প্রতি এক আইনজীবী তাঁর মক্কেলের দুটি অংশীদারি চুক্তিপত্র নিবন্ধনের জন্য পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে যান। সব কাগজপত্র সঠিক থাকার পরও নিবন্ধন আটকে রেখে মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করা হয়। ঘুষ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ওই আইনজীবী দুদকের হটলাইন ‘১০৬’-এ অভিযোগ দায়ের করেন।

​অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিকেলে দুদক চট্টগ্রাম সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম পাহাড়তলী সাবরেজিস্ট্রি কার্যালয়ে ফাঁদ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে ঘুষের নগদ দুই লাখ টাকাসহ সাবরেজিস্ট্রার আবদুস সোবহান, হেড ক্লার্ক ফারুক ইসলাম ও উমেদার রূপণ দাশকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। এই ঘটনায় দুদকের পক্ষ থেকে চট্টগ্রাম নগরীর সংশ্লিষ্ট থানায় একটি দুর্নীতি দমন মামলা দায়ের করা হয়েছে।

বাস্তব কন্ঠ
Developed by ZapStudio Network
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF