নিজস্ব প্রতিবেদক, বাস্তব কণ্ঠ
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য পদে প্রার্থীদের জন্য ৪২টি প্রতীক চূড়ান্ত করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশোধিত নির্বাচনী বিধিমালা অনুযায়ী এবার ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে নির্দলীয় প্রতীকে। একই সঙ্গে প্রার্থীদের জামানত ও চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনী ব্যয়সীমাও বাড়ানো হয়েছে।
১৬ সেপ্টেম্বর স্বাক্ষরিত এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে নির্বাচন কমিশন। নতুন বিধিমালা অনুযায়ী চেয়ারম্যান পদের জন্য ২০টি, সাধারণ সদস্য পদের জন্য ১২টি এবং সংরক্ষিত সদস্য পদের জন্য ১০টি প্রতীক নির্ধারণ করা হয়েছে।
চেয়ারম্যান প্রার্থীদের জামানত ৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত সদস্য প্রার্থীদের জামানত ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
জামানত ফেরতের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন এনেছে কমিশন। নতুন নিয়মে কোনো প্রার্থী মোট প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশের কম ভোট পেলে তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। এর আগে মোট প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশ ভোট পেলেই জামানত ফেরত পাওয়ার সুযোগ ছিল।
এবার ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে কোনো দলীয় প্রতীক থাকবে না। সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধনের পর সংশোধিত বিধিমালা থেকে দলীয় প্রতীক বাদ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ফলে প্রার্থীরা কমিশন নির্ধারিত প্রতীকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।
চেয়ারম্যান পদের ২০টি প্রতীকের মধ্যে রয়েছে—কম্পিউটার, কলার ছড়ি, ঘণ্টা, ঘোড়া, চিংড়ি, জগ, টেবিল, টেবিলঘড়ি, টেলিফোন, দালান, দোতলা বাস, পাগড়ি, বেবিট্যাক্সি, ময়ূর, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল, মোড়া, রেল ইঞ্জিন, সোফা ও হাঁস।
সংরক্ষিত সদস্য পদের প্রতীকগুলো হলো—আলমারি, কলস, ড্রেসিং টেবিল, পালকি, ফলের ঝুড়ি, মাইক, সেলাই মেশিন, সূর্যমুখী ফুল, হরিণ ও হেলিকপ্টার। সাধারণ সদস্য পদের জন্য নির্ধারিত প্রতীক হচ্ছে—উট, কাপ-পিরিচ, ঘুড়ি, জাহাজ, টর্চলাইট, টিউবওয়েল, ট্রাক্টর, তালা, ফুটবল, বৈদ্যুতিক পাখা, বৈদ্যুতিক বাল্ব ও মোরগ।
সংশোধিত বিধিমালায় নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও নির্বাচন কমিশনের হাতে দেওয়া হয়েছে। কোনো ভোটকেন্দ্রের ফলাফল বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন, কারসাজি বা অন্য কোনো অনিয়মের কারণে গুরুতরভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হলে কমিশন ওই কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করতে পারবে। প্রয়োজনে নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোটগ্রহণের সিদ্ধান্তও নিতে পারবে ইসি।
নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সময় গণমাধ্যমকর্মীদের কাজে বাধা দেওয়ার বিষয়েও নতুন বিধান যুক্ত করা হয়েছে। এ অপরাধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
এদিকে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়সীমা দ্বিগুণ করা হয়েছে। আগের ৫ লাখ টাকার পরিবর্তে এবার সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা ব্যয় করতে পারবেন চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। তবে সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়সীমা আগের মতোই ২ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।
নতুন বিধিমালার এসব পরিবর্তনের ফলে আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নতুন কাঠামো ও সংশোধিত নিয়মে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।