নিজস্ব প্রতিবেদক
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে দেশে দূরপাল্লার ও দূরপাল্লার নয় এমন বাসের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি কিলোমিটারে বাস ভাড়া ১৭ পয়সা বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে সরকার নির্ধারিত এই ভাড়ার চেয়ে বেশি আদায় করা হলে সংশ্লিষ্ট বাসের রুট পারমিট বাতিল করার কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
আজ মঙ্গলবার দুপুরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা জানান।
মন্ত্রী জানান, আজই এ সংক্রান্ত সরকারি গেজেট প্রকাশ করা হবে এবং প্রকাশের পর থেকেই এই নতুন ভাড়া কার্যকর হবে। তিনি বলেন, "জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির পর গাণিতিক নিয়মে বাসের ভাড়া প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা বাড়ার কথা ছিল। এছাড়া বাস মালিক সমিতিও তাদের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ (মেইনটেন্যান্স কস্ট) বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে এর চেয়ে কম ভাড়া মানতে চায়নি।"
তবে দীর্ঘ সময় আলোচনার পর পরিবহন মালিকদের সার্বিক পরিস্থিতি বুঝিয়ে প্রতি কিলোমিটারে ১৭ পয়সা বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত করা সম্ভব হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, "যেকোনো ভাড়া বাড়লেই তা জনগণের ওপর এক ধরণের চাপ সৃষ্টি করে। তবে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতির কারণে রাষ্ট্রকে এভাবে সমন্বয় করতে হয়। সব দিক বিবেচনা করে আমরা একটি যৌক্তিক ভাড়া নির্ধারণ করতে পেরেছি বলে মনে করি।"
তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়ে সতর্ক করেন, নির্ধারিত হারের চেয়ে এক টাকাও বেশি ভাড়া আদায় করা হলে উক্ত বাসের রুট পারমিট সরাসরি বাতিল করা হবে।
রেল ও নৌপথের ভাড়া বৃদ্ধির বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে শেখ রবিউল আলম জানান, রেলের ভাড়া এখনই বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। তবে পরশুদিন রেল ও নৌ পরিবহন খাত নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ন বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। লঞ্চ মালিকদের পক্ষ থেকে ভাড়া বাড়ানোর একটি দাবি রয়েছে, যা ওই বৈঠকের পর আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।