নিজস্ব প্রতিবেদক | বাস্তব কণ্ঠ
সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনবান্ধব করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ (এনপিএ)। এর মধ্যে পেনশনভোগীর মৃত্যুর পর নমিনির পেনশন পাওয়ার বয়সসীমা ৭৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৮০ বছর করার উদ্যোগ এবং শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিম চালুর অনুমোদন রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের বোর্ড সভায় এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান জানান, শরিয়াহভিত্তিক পেনশন স্কিমের কার্যপদ্ধতি নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। সেই আলোচনার ভিত্তিতে স্কিমটির বিস্তারিত কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে।
সভায় অর্থমন্ত্রী সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার প্রচার-প্রচারণা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের মধ্যে এ ব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির আহ্বান জানান তিনি।
সভায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য পেনশনভোগীদের বিনিয়োগের মুনাফার হার ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগের ২০২৪-২৫ অর্থবছরে মুনাফার হার ছিল ১১ দশমিক ১ শতাংশ থেকে ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ।
পেনশন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে নিয়মিত সরকারি নিরীক্ষার পাশাপাশি হিসাব নিরীক্ষার জন্য একটি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্সি প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এ ছাড়া যেসব রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিতে নিজস্ব পেনশন ব্যবস্থা নেই, সেসব প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সর্বজনীন পেনশনের ‘প্রগতি’ স্কিমের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সর্বজনীন পেনশনে পেনশন শুরুর বয়স ৬০ বছর থেকে কমিয়ে ৫৫ বছর করার প্রস্তাব নিয়েও সভায় আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন এনপিএর নির্বাহী চেয়ারম্যান।
তিনি জানান, একজন অ্যাকচুয়ারির পরামর্শ নেওয়ার পর তাঁর মতামতের ভিত্তিতে বিষয়টি পরবর্তী গভর্নিং বডির সভায় উপস্থাপন করা হতে পারে।
সুরাতুজ্জামান বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ৬২ থেকে ৬৭ বছরের মধ্যে পেনশন চালু হয়। স্পেনে পেনশন পাওয়ার বয়স ৬৭ বছর এবং যুক্তরাজ্যসহ অনেক দেশে তা ৬৬ বছর। বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু প্রায় ৭৩ বছর হওয়ায় এসব বিষয় বিবেচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সভায় সর্বজনীন পেনশনভোগীদের জন্য স্বাস্থ্যবিমা চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে পেনশন স্কিমের আওতায় ঋণ সুবিধা চালুর বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে পেনশন স্কিমে নিবন্ধনের ফি ১৫ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য চালু করা ‘প্রবাস’ স্কিমে তুলনামূলকভাবে কম সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট চালুর পর এ পর্যন্ত এ স্কিমে ১ হাজার ১৭১ জন নিবন্ধন করেছেন। তাঁদের জমা দেওয়া অর্থের পরিমাণ ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।
বিদেশে যাওয়ার আগে অভিবাসী কর্মীদের ‘প্রবাস’ স্কিমে নিবন্ধনে উৎসাহিত করতে উদ্যোগ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে সভায়।
জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার চারটি স্কিমে মোট ৩ লাখ ৭৯ হাজার ৯২০ জন গ্রাহক নিবন্ধন করেছেন। তাঁদের জমা দেওয়া অর্থের পরিমাণ ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা।
এর মধ্যে ‘সমতা’ স্কিমে নিবন্ধন করেছেন ২ লাখ ৮৭ হাজার ২২৪ জন। এই স্কিমে জমা হয়েছে ৫৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।
তথ্যসূত্র: জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যানের বক্তব্য ও বোর্ড সভার সিদ্ধান্তসংক্রান্ত তথ্য।