হুথিদের সঙ্গে সমঝোতার ইঙ্গিত যুক্তরাষ্ট্রের, সৌদির সামনে নতুন কৌশলগত চ্যালেঞ্জ
লোহিত সাগরের বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে মার্কিন জাহাজে হামলা না চালানোর আশ্বাস দিয়েছে ইয়েমেনভিত্তিক হুথি বিদ্রোহীরা। সম্প্রতি হুথি ও মার্কিন প্রতিনিধিদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এমন আশ্বাস দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। এর পরিপ্রেক্ষিতে হুথিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবকে সামরিক সহায়তা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন—প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, হুথি প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছেন, বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে কোনো মার্কিন জাহাজে হামলা চালানোর পরিকল্পনা তাদের নেই। পাশাপাশি গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনেরও কোনো ইচ্ছা নেই বলে জানানো হয়েছে।
হুথি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, লোহিত সাগরে তাদের সম্ভাব্য হামলার লক্ষ্য হবে সৌদি আরবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জাহাজ। তবে এ ধরনের বক্তব্য ও প্রতিশ্রুতির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুথিদের অবস্থান ও সাম্প্রতিক আলোচনার পর সৌদি আরবকে সামরিক সহযোগিতা না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে হুথিদের মোকাবিলায় রিয়াদের সামনে কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ অথবা বিকল্প সামরিক অংশীদার খোঁজার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব চাইলে হুথিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নিতে পারে। পাশাপাশি তুরস্ক ও পাকিস্তানকে সঙ্গে নিয়ে সম্ভাব্য সামরিক কৌশল নিয়েও ভাবতে হতে পারে দেশটিকে।
হুথিদের বিরুদ্ধে নতুন কোনো সংঘাতে জড়ানোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অনাগ্রহের পেছনে একাধিক কারণের কথা উল্লেখ করেছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম। এর মধ্যে ইরানের সঙ্গে চলমান ব্যয়বহুল সামরিক সংঘাত এবং অস্ত্রের মজুতের ওপর সম্ভাব্য চাপ অন্যতম।
প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক কর্মকাণ্ডে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডারে চাপ তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় হুথিদের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়ে ওয়াশিংটন সতর্ক অবস্থান নিয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
২০২৫ সালের মার্চে যুক্তরাষ্ট্র হুথিদের সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে। তবে এরপরও মার্কিন কর্মকর্তাদের সঙ্গে হুথি প্রতিনিধিদের বৈঠক হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এ ছাড়া ফিলিস্তিনের হামাস, লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরানের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি আলোচনায় বসেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বৈঠক আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সংঘাত নিয়ন্ত্রণ ও কূটনৈতিক যোগাযোগের প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, গত শুক্রবার দ্রুতগতির অভিযানের মাধ্যমে হুথিরা লোহিত সাগরের বন্দরনগরী মোখা দখল করেছে। এর ফলে বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
বাব এল-মান্দেব আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি সামুদ্রিক পথ। ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সৌদি আরব এই পথ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানি করছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
হুথিদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের যোগাযোগ এবং সৌদিকে সামরিক সহায়তা না দেওয়ার সিদ্ধান্তের ফলে লোহিত সাগরকেন্দ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক কূটনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান ও সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।