নিজস্ব প্রতিবেদক | বাস্তব কণ্ঠ
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে ভারতে যাওয়ার পর নির্ধারিত সময়ের আগেই চীনে ফিরে আসা এবং দেশে ফেরার পর তাকে জনসমক্ষে দেখা না যাওয়াকে কেন্দ্র করে এসব আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে তার অসুস্থতা বা গুরুতর শারীরিক সমস্যার বিষয়ে এখন পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।
১৮তম ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দিতে প্রায় সাত বছর পর প্রথমবারের মতো ভারত সফরে যান শি জিনপিং। সম্মেলন চলাকালে ১৩ সেপ্টেম্বর অন্য কয়েকজন বিশ্বনেতার আগেই তিনি চীনে ফিরে যান। এরপর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার স্বাস্থ্য নিয়ে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়ে।
ভারতের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের প্রকাশিত একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। ভিডিওতে সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যের সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে কিছুক্ষণের জন্য শি জিনপিংয়ের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে দেখা যায়। মোদিকে বলতে শোনা যায়, ‘সব ঠিক আছে?’ এরপর কয়েকজন সহযোগী শি’র দিকে এগিয়ে যান। শি মাথা নেড়ে সম্মতি জানান এবং মোদি বক্তব্য অব্যাহত রাখেন।
তবে চীনা সাংবাদিকদের প্রকাশ করা একটি দীর্ঘ ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, ওই ঘটনার সঙ্গে শি’র অসুস্থতার কোনো সম্পর্ক ছিল না। তাদের ভাষ্য, শি’র রিয়েল-টাইম অনুবাদের জন্য ব্যবহৃত ইয়ারপিসে সমস্যা হয়েছিল। বিষয়টি নিয়েই মোদি তার খোঁজ নিয়েছিলেন।
এর মধ্যেই চায়না ডেমোক্রেসি পার্টির চেয়ারম্যান শিয়ে ওয়ানজুন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দাবি করেন, ব্রিকস সম্মেলনের সময় শি জিনপিং জ্ঞান হারিয়েছিলেন এবং পরে জরুরি চিকিৎসার জন্য তাকে চীনে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তিনি শি’র ‘ইস্কেমিক স্ট্রোক’ হয়েছে বলেও দাবি করেন। তবে এসব বক্তব্যের সমর্থনে স্বাধীন কোনো যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি। চায়না ডেমোক্রেসি পার্টিও চীনে নিবন্ধিত রাজনৈতিক সংগঠন নয়।
মার্কিন সাংবাদিক বিল গার্টজ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক গর্ডন চ্যাংও শি’র স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মন্তব্য করেছেন। তবে তাদের বক্তব্যও শি জিনপিংয়ের শারীরিক অবস্থার স্বাধীন নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়নি।
এদিকে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা দেশে ফেরার পর অসুস্থ হয়ে সাময়িকভাবে জনসম্পৃক্ত কর্মসূচি থেকে বিরত রয়েছেন বলে তার কার্যালয় জানিয়েছে। তাকে ঘিরেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্রিকসের খাবারের সঙ্গে অসুস্থতার সম্পর্ক থাকার দাবি উঠেছে। তবে এ দাবির পক্ষেও কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, শি জিনপিংয়ের স্বাস্থ্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যের ক্ষেত্রে সরকারি বা নির্ভরযোগ্য স্বাধীন সূত্রের নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত সতর্ক থাকা জরুরি।