আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাস্তব কণ্ঠ
রাশিয়ার জ্বালানি আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের পথ খুলে দিতে পারে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা বিল। এতে সম্ভাব্য শুল্কের আওতায় ভারত ও চীনসহ ১০টি দেশের নাম উঠে এসেছে। রাশিয়া ও ইরানের ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যেই প্রস্তাবিত আইনটি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি নিয়ে পরবর্তী কার্যক্রম শুরুর প্রস্তাব ২১৪-২১১ ভোটে অনুমোদিত হয়। দুই ডেমোক্র্যাট সদস্য রিপাবলিকানদের সঙ্গে ভোট দেওয়ায় প্রস্তাবটি পাস হয়। এর আগে গত ৭ আগস্ট মার্কিন সিনেটে ৮৬-১১ ভোটে বিলটি অনুমোদন পেয়েছিল।
‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংকশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ নামের এই বিলে রাশিয়ার নেতৃত্ব, জ্বালানি খাত এবং নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে যুক্ত জাহাজগুলোর বিরুদ্ধে নতুন পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে।
বিলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও গ্যাস আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব। এর আওতায় সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের সুযোগ রাখা হয়েছে।
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে উত্থাপিত একটি সংশোধনীতে সম্ভাব্য শুল্কের আওতাভুক্ত ১০টি দেশের তালিকা দেওয়া হয়েছে। দেশগুলো হলো—ভারত, চীন, তুরস্ক, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তান।
বিলটির বিরোধিতা করে ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা গ্রেগরি মিকস বলেছেন, প্রস্তাবিত আইনের মাধ্যমে প্রেসিডেন্টকে শুল্ক আরোপে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মতে, এই ক্ষমতার ওপর যথেষ্ট নিয়ন্ত্রণ থাকা প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অনুযায়ী, রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বিক্রির আয় ইউক্রেনের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে অর্থায়নে সহায়তা করছে। তাই রাশিয়ার জ্বালানি ক্রয়কারী দেশগুলোর ওপর চাপ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রতিনিধি পরিষদে বিলটি চূড়ান্তভাবে অনুমোদিত হলে পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া শেষে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের বিষয়টি সামনে আসবে। তবে বিলের চূড়ান্ত ভোটের সময়সূচি ও সংশোধনীর চূড়ান্ত অবস্থার ওপর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ভর করবে।
সূত্র: রয়টার্স, দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের নথি।