আন্তর্জাতিক ডেস্ক | বাস্তব কণ্ঠ
ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে তিন দিনের সফরে ভারতে অবস্থান করছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তাঁর সফরকে কেন্দ্র করে ভারত ও রাশিয়ার নিরাপত্তা সংস্থাগুলো নিয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা। পুতিনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা থেকে শুরু করে খাবার, যাতায়াত ও যোগাযোগ—সব ক্ষেত্রেই রাখা হয়েছে কঠোর নজরদারি।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদেশ সফরের সময় পুতিনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাব্যবস্থা এতটাই কঠোর থাকে যে তাঁর স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কোনো তথ্য যাতে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার হাতে না যায়, সেদিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। এমনকি তাঁর মলমূত্র পর্যন্ত বিশেষ ব্যবস্থায় সংগ্রহ করে রাশিয়ায় নিয়ে যাওয়ার দাবি রয়েছে।
ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর রুশ প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর নিরাপত্তায় রাশিয়ার ফেডারেল প্রোটেকটিভ সার্ভিস (এফএসও)-এর বিপুলসংখ্যক সদস্য নিয়োজিত থাকেন।
পুতিনের ভারত সফরে নিরাপত্তাব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হলো বহুস্তরীয় নিরাপত্তা বলয়। সবচেয়ে কাছের স্তরে থাকছেন তাঁর নিজস্ব রুশ নিরাপত্তারক্ষীরা। এরপর ভারতীয় বিশেষায়িত নিরাপত্তা বাহিনী এনএসজি এবং দিল্লি পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানা গেছে।
পুতিনের যাতায়াতেও রয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আকাশপথে তিনি ব্যবহার করেন রাশিয়ার বিশেষ প্রেসিডেন্টিয়াল উড়োজাহাজ, যেটিকে নিরাপত্তা সক্ষমতার কারণে অনেক সময় ‘উড়ন্ত ক্রেমলিন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। স্থলপথে ব্যবহৃত হয় অত্যন্ত সুরক্ষিত প্রেসিডেন্টিয়াল লিমুজিন, যা বিস্ফোরণ, রাসায়নিক হামলা ও অন্যান্য সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় বিশেষভাবে প্রস্তুত।
খাবারের ক্ষেত্রেও রয়েছে বাড়তি সতর্কতা। সফরসঙ্গী রুশ ব্যক্তিগত রাঁধুনিদের প্রস্তুত করা খাবার নিরাপত্তা কর্মকর্তারা পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রেসিডেন্টের কাছে পরিবেশন করেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এ ছাড়া রুশ প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সর্বদা থাকে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্কিত বিশেষ কমান্ড ব্রিফকেস ‘চেগেট’। জরুরি পরিস্থিতিতে রাশিয়ার পারমাণবিক কমান্ড ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে পরিচিত এই ব্রিফকেস পুতিনের নিরাপত্তা প্রটোকলের অন্যতম আলোচিত উপাদান।
সব মিলিয়ে পুতিনের ভারত সফর ঘিরে নেওয়া এই বহুমাত্রিক নিরাপত্তাব্যবস্থা বিশ্বের অন্যতম সুরক্ষিত রাষ্ট্রপ্রধানের সফর হিসেবে আন্তর্জাতিক মহলের নজর কেড়েছে।