Logo
প্রিন্টের তারিখ: 17 October 2026 | প্রকাশের তারিখ: Oct 18, 2026

সংবাদ শিরোনাম : উপজেলা নির্বাচনে পোস্টার-মিছিল নিষিদ্ধ, এআই কনটেন্টেও কড়াকড়ি

উপজেলা নির্বাচনে পোস্টার-মিছিল নিষিদ্ধ, এআই কনটেন্টেও কড়াকড়ি

নিজস্ব প্রতিবেদক

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রচারণায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন আচরণবিধিতে পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি মিছিল-শোডাউন, হেলিকপ্টার ব্যবহার, সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর বা বিদ্বেষপূর্ণ কনটেন্ট প্রচারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

গত ৩ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের স্বাক্ষরে নতুন বিধিমালা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়। এতে প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থকদের নির্বাচনী প্রচারণার ধরন, ব্যয় এবং বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ওপর নতুন করে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।

নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে অন্য কেউ নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। ভবন, দেয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুতের খুঁটি, সরকারি স্থাপনা, সেতু ও কালভার্টসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচারসামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেধ থাকছে।

এ ছাড়া তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের আগ পর্যন্ত প্রকাশ্য মিছিল বা শোভাযাত্রা করা যাবে না। ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান, ট্রেনসহ বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করে মিছিল বা শোডাউনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণায় হিসাব দিতে হবে

নতুন বিধিমালায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে প্রচারণার সুযোগ রাখা হলেও এ ক্ষেত্রে প্রার্থীদের নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে হবে। প্রচারণা শুরুর আগে কোন কোন ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে তথ্য দিতে হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিজ্ঞাপন বা প্রচারণায় যে অর্থ ব্যয় হবে, সেটিও প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবের আওতায় আসবে।

এআই দিয়ে ভুয়া প্রচারণায় নিষেধাজ্ঞা

নির্বাচনী প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ঠেকাতে নতুন বিধিমালায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে সংশ্লিষ্ট কেউ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, বিদ্বেষপূর্ণ কিংবা ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক বক্তব্য প্রচার করতে পারবেন না।

নির্বাচনী পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে—এমন কনটেন্ট তৈরি বা প্রচারও নিষিদ্ধ। বিশেষ করে এআই ব্যবহার করে ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর ছবি, ভিডিও, অডিও কিংবা অন্যান্য কনটেন্ট তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে কঠোর বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে।

অর্থ-উপহার দিয়ে ভোটার প্রভাবিত করা যাবে না

ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ, খাবার, পানীয় কিংবা উপহার দেওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা থাকছে। একই সঙ্গে ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসকে নির্বাচনী প্রচারণার কাজে ব্যবহার করা যাবে না।

ধর্মের অপব্যবহার, পেশিশক্তির প্রয়োগ এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে কুৎসা, অপপ্রচার বা ব্যক্তিগত চরিত্রহননমূলক বক্তব্য প্রচারও আচরণবিধির আওতায় নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

সরকারি সম্পদ ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা

নির্বাচনী প্রচারণায় সরকারি সুযোগ-সুবিধা নেওয়া যাবে না। সরকারি যানবাহন, প্রচারযন্ত্র বা অন্যান্য সরকারি সম্পদ নির্বাচনী কাজে ব্যবহার নিষিদ্ধ থাকবে। পাশাপাশি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

নির্বাচনের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আনা-নেওয়ার জন্য যানবাহন ভাড়া বা ব্যবহারের সুযোগও থাকবে না। নির্বাচনী ক্যাম্প স্থাপন এবং মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত নিয়ম মানতে হবে।

প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগ, শাস্তিও কঠোর

নতুন বিধিমালায় আচরণবিধি বাস্তবায়নে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা আরও জোরদার করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তাঁর নির্বাচনী এজেন্ট আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন কিংবা লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছেন বলে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বিধিমালা লঙ্ঘনের জন্য সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে।

নতুন বিধিমালার মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, ডিজিটাল মাধ্যমে অপপ্রচার ঠেকানো এবং সরকারি সম্পদের অপব্যবহার রোধের পাশাপাশি ভোটের পরিবেশকে আরও নিয়ন্ত্রিত ও সুশৃঙ্খল করার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন।

বাস্তব কন্ঠ
Developed by ZapStudio Network
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF