Logo
প্রিন্টের তারিখ: 17 October 2026 | প্রকাশের তারিখ: Oct 18, 2026

সংবাদ শিরোনাম : তিন দশক পরও অমলিন সালমান শাহ, আজ ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী

তিন দশক পরও অমলিন সালমান শাহ, আজ ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী

বিনোদন প্রতিবেদক

বাংলা চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ রোববার (৬ সেপ্টেম্বর)। ১৯৯৬ সালের এই দিনে মাত্র ২৪ বছর বয়সে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান ক্ষণজন্মা এই তারকা। তার আকস্মিক মৃত্যুতে সেসময় শোকের ছায়া নেমে এসেছিল দেশের চলচ্চিত্রাঙ্গন ও অগণিত ভক্তের মাঝে।

সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনাটি শুরু থেকেই নানা আলোচনা ও প্রশ্নের জন্ম দেয়। মৃত্যুর পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে প্রচার করা হলেও পরবর্তী সময়ে এ নিয়ে তৈরি হয় নানা বিতর্ক। দীর্ঘ সময় ধরে তদন্ত, আইনি প্রক্রিয়া ও বিভিন্ন দাবির কারণে বিষয়টি আলোচনায় থেকেছে। তিন দশক পেরিয়ে গেলেও তার মৃত্যুর রহস্য নিয়ে মানুষের আগ্রহ এখনও কমেনি।

তবে মৃত্যুর এত বছর পরও দর্শকের হৃদয়ে সালমান শাহর জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি। বরং সময়ের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের কাছেও তিনি হয়ে উঠেছেন অনুকরণীয় এক তারকা। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি তার পোশাক-পরিচ্ছদ, চুলের স্টাইল, ব্যান্ডানা, সানগ্লাস, বাইক এবং স্বতন্ত্র ফ্যাশন তাকে পরিণত করেছে বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম স্টাইল আইকনে।

শুধু দর্শক নয়, পরবর্তী প্রজন্মের অনেক চলচ্চিত্র তারকাও সালমান শাহকে নিজেদের অনুপ্রেরণা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ঢালিউডের শীর্ষ অভিনেতা শাকিব খানসহ অনেকেই বিভিন্ন সময়ে জানিয়েছেন, সালমান শাহর অভিনয় ও ব্যক্তিত্ব তাদের চলচ্চিত্রে আগ্রহী হতে অনুপ্রাণিত করেছে।

সালমান শাহর প্রকৃত নাম শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন। ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। অভিষেকের পর অল্প সময়ের মধ্যেই দর্শকের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন এই অভিনেতা।

মাত্র চার বছরের চলচ্চিত্রজীবনে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করেন সালমান শাহ। ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’, ‘তোমাকে চাই’, ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘অন্তরে অন্তরে’, ‘দেনমোহর’, ‘প্রিয়জন’ ও ‘আনন্দ অশ্রু’সহ বেশ কয়েকটি ব্যবসাসফল ও জনপ্রিয় সিনেমায় অভিনয় করে তিনি নিজের অবস্থানকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যান।

অভিনয়ের পাশাপাশি পর্দায় তার উপস্থিতি, পোশাক ও ব্যক্তিত্ব সে সময়ের তরুণদের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিল। অল্প সময়ের ক্যারিয়ার হলেও তার অভিনয় ও স্টাইল বাংলা চলচ্চিত্রে আলাদা একটি ধারা তৈরি করে।

১৯৯৬ সালে তার আকস্মিক মৃত্যু বাংলা চলচ্চিত্রে যে শূন্যতা তৈরি করেছিল, তিন দশক পরও তা পূরণ হয়নি বলে মনে করেন তার ভক্ত ও চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্টরা।

সালমান শাহ নেই, কিন্তু তার অভিনীত সিনেমা, গান, চরিত্র ও স্বতন্ত্র ফ্যাশন এখনও দর্শকের স্মৃতিতে জীবন্ত। সময়ের ব্যবধান যতই বাড়ছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে—বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সালমান শাহ শুধু একটি নাম নন; তিনি একটি প্রজন্মের আবেগ এবং চিরসবুজ এক চলচ্চিত্র কিংবদন্তি।

বাস্তব কন্ঠ
Developed by ZapStudio Network
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF