Logo
প্রিন্টের তারিখ: 19 October 2026 | প্রকাশের তারিখ: Oct 19, 2026

সংবাদ শিরোনাম : ঘুস নেওয়ার সত্যতা প্রমাণ সত্ত্বেও অধরা মানিকগঞ্জের নায়েব মোতালেব

ঘুস নেওয়ার সত্যতা প্রমাণ সত্ত্বেও অধরা মানিকগঞ্জের নায়েব মোতালেব


​মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার দরগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপসহকারী ভূমি কর্মকর্তা (নায়েব) আব্দুল মোতালেবের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ঘুস গ্রহণের অভিযোগ প্রমাণিত হলেও তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। উল্টো অভিযোগের নিষ্পত্তি না হতেই শাস্তির হাত থেকে বাঁচতে তিনি স্বেচ্ছায় অবসরে (এলপিআর) যাওয়ার আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে।

​অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১১ সেপ্টেম্বর ‘ঘুসের রেট ২০ হাজার থেকে দেড় লাখ, টাকা ছাড়া কাজ করেন না ভূমি কর্মকর্তা’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এতে নামজারিসহ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের নানা সেবা প্রদানে সাধারণ সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে ২০ হাজার থেকে শুরু করে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুস দাবি ও আদায়ের চিত্র উঠে আসে। সংবাদের পাশাপাশি অভিযুক্ত নায়েব আব্দুল মোতালেবের অফিসে বসে টেবিলের ওপর ঘুস গুনে নেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

​সংবাদটি নজরে আসার পর মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নির্দেশে সাটুরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মোহাম্মদ অনিক ইসলামকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটিকে সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।

​তদন্তের অংশ হিসেবে গত ২৩ সেপ্টেম্বর আয়োজিত শুনানিতে অভিযোগকারী, সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক এবং অভিযুক্ত নায়েব আব্দুল মোতালেবের লিখিত বক্তব্য গ্রহণ করা হয়। সূত্র জানায়, শুনানিকালে নায়েব আব্দুল মোতালেব নিজের ঘুস গ্রহণের বিষয়টি স্বীকার করেন। তদন্ত শেষে ইউএনও জেলা প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদন জমা দেন। তবে সেই প্রতিবেদনে কী সুপারিশ করা হয়েছে, তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি।

​এদিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার বেশ কিছুদিন পার হয়ে গেলেও অভিযুক্ত মোতালেবের বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় বা প্রশাসনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

​খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অভিযুক্ত নায়েব মোতালেবের নিয়মিত চাকরির মেয়াদ রয়েছে আর মাত্র দুই মাস। এরই মধ্যে তিনি তড়িঘড়ি করে স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়ার আবেদন জমা দিয়েছেন। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, বিভাগীয় ব্যবস্থা বা তদন্তের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই যদি তিনি অবসরে চলে যেতে পারেন, তবে ঘুস ও দুর্নীতির মারাত্মক অভিযোগ থেকেও তিনি পার পেয়ে যাবেন।

​স্থানীয় সেবাগ্রহীতারা দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ অনুযায়ী ওই ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

বাস্তব কন্ঠ
Developed by ZapStudio Network
🖨️ প্রিন্ট 💾 JPG 📄 PDF