নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার:
কক্সবাজার পুলিশ সুপার (এসপি) কার্যালয় ও প্রেস ক্লাবের ঠিক সামনের একটি অভিজাত ভবনের ফ্ল্যাট থেকে ৩ লাখ পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, টেকনাফ সীমান্ত থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে ঢাকার কেরানীগঞ্জে পাচারের জন্য ফ্ল্যাটটি গোডাউন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছিল।
রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত আড়াইটা থেকে ভোর চারটা পর্যন্ত শহরের বাহারছড়া নিউ সার্কিট হাউস রোডের ‘কোরাল রিপ পূর্বিতা সুলতান ভিলা’ নামের ভবনের নবম তলার একটি ফ্ল্যাটে এই অভিযান চালানো হয়।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন:
অভিযানের বিবরণ:
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আলী জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের তিনটি বিশেষ দল ওই ফ্ল্যাটে অভিযান চালায়। তল্লাশির একপর্যায়ে শয়নকক্ষের কেবিনেটে থাকা দুটি কালো ট্রাভেল ব্যাগে খাকি টেপে মোড়ানো ৩০টি প্যাকেট থেকে ৩ লাখ পিস ইয়াবা এবং তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার ব্যক্তিরা জানান, ফ্ল্যাটটি ঢাকার কেরানীগঞ্জের মো. রাহাদ হোসেন (২৬) নামের এক ব্যক্তির নামে ভাড়া নেওয়া হয়েছিল। টেকনাফ সীমান্ত থেকে ইয়াবাগুলো সংগ্রহ করে রাহাদের কাছে পাঠানোর জন্য এখানে মজুত করা হয়েছিল। পলাতক রাহাদকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। এছাড়া গ্রেফতার আরমান সাংবাদিকদের জানান, এর আগেও তিনি ১০টি চালানে মোট ২০ লাখ পিস ইয়াবা ঢাকায় পাঠিয়েছেন।
আইনগত ব্যবস্থা ও সংশ্লিষ্টদের প্রতিক্রিয়া:
এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। ফ্ল্যাটে নিয়মিত যাতায়াতকারীদের শনাক্ত করতে গত এক মাসের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করছে পুলিশ।
এদিকে পুলিশ সুপার কার্যালয় ও প্রেস ক্লাবের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার ঠিক সামনে ইয়াবার গোডাউন গড়ে তোলার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা। সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালী বলেন, মাদক কারবারিদের এমন বেপরোয়া মনোভাব প্রমাণ করে তাদের শক্তিমত্তা কেমন। এই সিন্ডিকেটের বিষদাঁত ভেঙে দিতে হবে।
কক্সবাজার প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী বলেন, অভিজাত ভবনগুলোর দুর্বল নজরদারির সুযোগ নিয়ে মাদক কারবারিরা এগুলোকে নিরাপদ ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করছে। পরিচয় বা পেশা বিবেচনা না করে এর সঙ্গে জড়িত সবার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।